নিখিলেশ এবং আজিজ—দুটি ভিন্ন চরিত্র, দুটি সম্পূর্ণ আলাদা জগৎ। সত্যজিৎ রায়ের ‘ঘরে–বাইরে’র নিখিলেশ যেমন শান্ত, সংযত এবং যুক্তিবাদী; তেমনি তিনি ভালোবাসেন, তবে ভালোবাসার দোহাই দিয়ে স্ত্রীর স্বাধীনতাকে খর্ব করতে চান না। অন্যদিকে, ডেভিড লিনের ‘আ প্যাসেজ টু ইন্ডিয়া’র ডা. আজিজ অত্যন্ত আবেগপ্রবণ এবং বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে ভীষণ উদার। তবে অপমান এবং অবিশ্বাসের ধাক্কায় তাঁর সেই আন্তরিক পৃথিবী মুহূর্তেই ভেঙে পড়ে। এই দুই চরিত্রের মধ্যকার বিশাল ব্যবধানই প্রমাণ করে অভিনেতা ভিক্টর ব্যানার্জির অভিনয়ের অবিশ্বাস্য ব্যাপ্তি।

একজন চরিত্রের অনুভূতি যেখানে নীরবতায় ধরা পড়ে, অন্যজনের আবেগ সেখানে উপচে পড়ে। ভিক্টর এই দুই বিপরীতধর্মী চরিত্রকেই পর্দায় বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছেন। তবে তাঁর দীর্ঘ অভিনয়জীবন কেবল এই দুই চরিত্রে সীমাবদ্ধ নয়। বাংলা বাণিজ্যিক সিনেমা থেকে হিন্দি চলচ্চিত্র, ব্রিটিশ সিনেমা থেকে শুরু করে ফরাসি নির্মাতার মহাকাশ জয়ের গল্প—নানা আঙ্গিকে কাজ করেছেন তিনি। এমনকি পর্দায় তিনি হয়ে উঠেছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও। আজ বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ভিক্টর ব্যানার্জির ৮০তম জন্মবার্ষিকী। ১৯৪৬ সালের এই দিনে কলকাতার বুকে তাঁর জন্ম। বাংলা, হিন্দি, ইংরেজি ও অসমিয়া চলচ্চিত্রে তিনি তাঁর অভিনয়ের স্বাক্ষর রেখে গেছেন। সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন, শ্যাম বেনেগাল, জেমস আইভরি, ডেভিড লিন, রোমান পোলানস্কি কিংবা ক্লের ডেনি—ভিন্ন দেশ ও ভিন্ন ধারার নির্মাতাদের ছবিতে তিনি নিজের বিশেষ ছাপ রেখে গেছেন।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, এত বিপুল কাজের সম্ভার থাকা সত্ত্বেও নিজের অভিনীত ছবি দেখার প্রতি তাঁর আগ্রহ নেই বললেই চলে। তিনি খুব বেছে বেছে সাক্ষাৎকার দেন। প্রচারের চাকচিক্য বা ব্যস্ততার চেয়ে পাহাড়ের নির্জন পরিবেশ, বই পড়া এবং নিজের অন্তরের প্রশ্নের উত্তর খোঁজার মধ্যেই তিনি বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করেন। পর্দায় বহু মানুষের জীবন ফুটিয়ে তোলা এই অভিনেতা বাস্তব জীবনে বাঁচতে চান একান্ত নিজের মতো করে। জন্মদিনে আজ তাঁকে পুনরায় জানব তাঁর কাজ ও চিন্তাভাবনার মধ্য দিয়ে।

ক্যামেরার সামনে আসার আগে সাহিত্য, সংগীত ও মঞ্চের সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্ক ছিল। ভিক্টরের আসল নাম পার্থসারথি বন্দ্যোপাধ্যায়। শৈশবে তিনি শিলংয়ের সেন্ট এডমন্ডস স্কুলে পড়াশোনা করেন। পরবর্তীতে কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলনামূলক সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করেন। চলচ্চিত্রে আসার আগেই সাহিত্য, সংগীত ও মঞ্চের প্রতি তাঁর টান তৈরি হয়। কলকাতার লাইট অপেরা গ্রুপের ‘দ্য ডেজার্ট সং’ প্রযোজনায় তিনি প্রধান টেনর হিসেবে গান গেয়েছিলেন। উল্লেখ্য, টেনর হলো পুরুষ কণ্ঠের একটি উচ্চ স্বরসীমা। এছাড়া মুম্বাইয়ের মঞ্চে ‘গডস্পেল’ সংগীতনাট্যে তিনি যিশুর চরিত্রে অভিনয় করেন। অপেরার টেনর হিসেবে ডাবলিনের ট্রিনিটি কলেজে বৃত্তি নিয়ে পড়ার সুযোগ এলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি।

গান ও অভিনয়ের এই অভিজ্ঞতা তাঁর শৈশব থেকেই। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে আনন্দবাজার পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভিক্টর বলেছেন, “পাঁচ বছর বয়সে শিলংয়ে গান গেয়ে পরিচিতি পেয়েছিলেন।” স্কুলের নাটকে কখনো তিনি নায়ক হয়েছেন, আবার কখনো অন্য কোনো চরিত্রে। সব সময় নিজেকেই নায়ক হতে হবে—এমন কোনো বদ্ধমূল ভাবনা তাঁর ছিল না। তাঁর পরবর্তী অভিনয়জীবনের সঙ্গে এই কথাগুলোর দারুণ মিল পাওয়া যায়। প্রধান চরিত্র হোক বা পার্শ্বচরিত্র, বাংলা বাণিজ্যিক ছবি হোক বা আন্তর্জাতিক প্রযোজনা—চরিত্রটি পছন্দ হলে তিনি সব জায়গাতেই কাজ করেছেন। নিজের উপস্থিতির দৈর্ঘ্যের চেয়ে চরিত্রের গভীরে প্রবেশ করার সুযোগটিই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

চলচ্চিত্রে তাঁর অভিষেক ঘটে সত্যজিৎ রায়ের ‘শতরঞ্জ কে খিলাড়ি’র মাধ্যমে। ১৯৭৭ সালে মুক্তি পাওয়া এই ছবিতে তিনি আওধের প্রধানমন্ত্রী মাদার-উদ-দৌলার চরিত্রে অভিনয় করেন। ক্যারিয়ারের শুরুতেই এমন একজন কিংবদন্তি নির্মাতার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাওয়া তাঁর জীবনের অন্যতম বড় ঘটনা। সত্যজিতের সঙ্গে পরে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘পিকু’তেও কাজ করেন তিনি। তবে এই নির্মাতার সঙ্গে তাঁর সবচেয়ে স্মরণীয় কাজ হলো ‘ঘরে–বাইরে’। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এই ছবিতে সন্দীপের ভূমিকায় ছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় এবং বিমলার চরিত্রে স্বাতীলেখা সেনগুপ্ত। আর নিখিলেশের ভূমিকায় অভিনয় করেন ভিক্টর। ছবির তিনটি চরিত্রের সম্পর্কের মাঝে ভালোবাসা, রাজনীতি, আকর্ষণ ও ব্যক্তিস্বাধীনতার জটিল প্রশ্নগুলো জড়িয়ে থাকে। সন্দীপের আবেগময় বক্তৃতা ও উপস্থিতির বিপরীতে নিখিলেশের শক্তি ছিল তাঁর সংযমে। তিনি স্ত্রী বিমলাকে ভালোবাসতেন, কিন্তু সেই ভালোবাসাকে নিয়ন্ত্রণের অধিকার মনে করতেন না। বিমলা যেন নিজের অভিজ্ঞতায় পৃথিবীকে চিনুক এবং নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিক—সেটিই তিনি চেয়েছিলেন। তবে এই উদারতা নিখিলেশকে বেদনা থেকে মুক্তি দেয়নি। সংসারে সন্দীপের উপস্থিতি, বিমলার আকর্ষণ ও রাজনৈতিক উত্তেজনা তাঁকে গভীরভাবে আঘাত করে। তা সত্ত্বেও নিজের বিশ্বাসের সঙ্গে তিনি আপস করতে চাননি। চরিত্রটির এই অন্তর্দ্বন্দ্ব ফুটিয়ে তুলতে ভিক্টরকে উচ্চকণ্ঠ হতে হয়নি; সংলাপের বিরতি, চোখের দৃষ্টি এবং নীরব উপস্থিতিতেই ফুটে উঠেছে নিখিলেশের অনুভূতি।

‘ঘরে–বাইরে’র এই অসাধারণ অভিনয়ের জন্য ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতার সম্মান পান ভিক্টর। তাঁর কাজের তালিকায় এই চরিত্রটি কেবল একটি স্মরণীয় অভিনয় নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতির উপলক্ষ।

সত্যজিতের নিখিলেশ থেকে ডেভিড লিনের আজিজ—ভিক্টরের আন্তর্জাতিক পরিচিতির গল্পে এই দুই নির্মাতার এক বিশেষ যোগসূত্র রয়েছে। ২০১১ সালে ঢাকায় এসে দ্য ডেইলি স্টারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভিক্টর বলেছিলেন, “ডা. আজিজ চরিত্রের জন্য একজন ভারতীয় অভিনেতা খুঁজছিলেন লিন।” সম্ভাব্য অভিনেতাদের দুটি তালিকা লিনের কাছে পৌঁছেছিল এবং দুটিতেই ছিল ভিক্টরের নাম। লিন সত্যজিৎ রায়ের কাজের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন এবং রবীন্দ্রনাথের প্রতিও তাঁর অনুরাগ ছিল। তালিকায় ভিক্টরের নামের সঙ্গে এই দুই ব্যক্তিত্বের উল্লেখ লিনকে আগ্রহী করে তোলে। ই এম ফরস্টারের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ‘আ প্যাসেজ টু ইন্ডিয়া’ ১৯৮৪ সালে মুক্তি পায়। ছবির গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র আজিজ একজন ভারতীয় মুসলিম চিকিৎসক, যিনি ইংরেজদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে আন্তরিকতার মাধ্যমে দূরত্ব মুছে ফেলতে চান। কিন্তু এক ইংরেজ তরুণীর অভিযোগে তাঁর জীবন ওলটপালট হয়ে যায়। ব্যক্তিগত সম্পর্কের আড়াল থেকে বেরিয়ে আসে ঔপনিবেশিক শাসনের বৈষম্য, সন্দেহ ও ক্ষমতার দাপট। নিখিলেশ যেখানে অনুভূতি সংবরণ করেন, আজিজ সেখানে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন সহজেই। বন্ধুত্বে তাঁর প্রবল আগ্রহ এবং অপমানের তীব্র প্রতিক্রিয়া—এই দুই দিকই ভিক্টর দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। এই ছবিটি তাঁকে আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে পরিচিত করে তোলে এবং আজিজ চরিত্রের জন্য ১৯৮৬ সালে বাফটায় সেরা প্রধান অভিনেতা বিভাগে মনোনয়ন পান তিনি। বাফটার নিজস্ব পুরস্কার তালিকায় সেই মনোনয়নের উল্লেখ রয়েছে।

ভিক্টরের আন্তর্জাতিক যাত্রা ডেভিড লিনের ছবিতে থেমে থাকেনি। রোনাল্ড নিমের ‘ফরেন বডি’তে তিনি অভিনয় করেন প্রধান চরিত্রে। রোমান পোলানস্কির ‘বিটার মুন’ ছবিতেও তাঁর কাজ ছিল। দুই ছবির গল্প ও ঘরানা আলাদা হওয়ায় তাঁর উপস্থিতির ধরনও ছিল ভিন্ন। অনেক পরে ফরাসি নির্মাতা ক্লের ডেনির ‘হাই লাইফ’ ছবিতে তাঁকে দেখা যায় একজন ভারতীয় অধ্যাপকের চরিত্রে। সহশিল্পীদের মধ্যে ছিলেন রবার্ট প্যাটিনসন ও জুলিয়েট বিনোশ। ছবিটির চলচ্চিত্র উৎসবের পরিচিতিতে ভিক্টরের চরিত্র ও অভিনয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আবার আর্জেন্টিনার নির্মাতা পাবলো সেজারের ‘থিঙ্কিং অব হিম’ ছবিতে তিনি হয়ে উঠেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। কবি ও আর্জেন্টাইন লেখক ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর সম্পর্ককে কেন্দ্র করে নির্মিত এই ছবিতে রবীন্দ্রনাথের ভূমিকায় অভিনয় করেন তিনি।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের সঙ্গেও ভিক্টরের নিবিড় যোগ রয়েছে। ২০১১ সালে মুক্তি পাওয়া রুবাইয়াত হোসেনের প্রথম চলচ্চিত্র ‘মেহেরজান’-এ মেহের ও নীলার নানা বা নানাজান চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। এই চরিত্রের জন্য শুরুতে রুবাইয়াত আলী যাকেরকে নিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি ব্যস্ত থাকায় সময় দিতে পারেননি। এরপর নির্মাতার সঙ্গে যোগাযোগ হয় ভিক্টরের। চিত্রনাট্য, চরিত্রের বিবরণ, পোশাক পরিকল্পনা ও গবেষণার নানা উপকরণ নিয়ে তাঁর কাছে যান রুবাইয়াত। দ্য ডেইলি স্টারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রুবাইয়াত জানিয়েছিলেন, ভিক্টর তাঁর প্রিয় অভিনেতাদের একজন। বিশেষ করে ‘ঘরে–বাইরে’ ও ‘আ প্যাসেজ টু ইন্ডিয়া’য় তাঁর অভিনয় নির্মাতাকে মুগ্ধ করেছিল।

ভিক্টরও তরুণ নির্মাতার ভাবনা ও চিত্রনাট্যে আগ্রহী হন। ছবির প্রিমিয়ার উপলক্ষে ঢাকায় এসে তিনি জানান, রুবাইয়াতের সঙ্গে আলাপে তাঁর পড়াশোনা ও চিন্তার পরিচয় পেয়েছেন। চরিত্রটির প্রস্তুতির জন্য তিনি সুফিবাদ নিয়ে গবেষণা করেন। বাংলাদেশের সংস্কৃতি, লালন এবং বাঙালি মুসলমানের নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয় নিয়েও কথা বলেন তিনি। মুক্তির আগেই ভিক্টরের ধারণা ছিল, ‘মেহেরজান’ বিতর্ক ও আলোচনা তৈরি করবে এবং সেই সম্ভাবনাকে তিনি ইতিবাচকভাবে দেখেছিলেন। তাঁর মতে, দর্শককে ভাবানোই চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রধান কাজ। ছবিটি নিয়ে পরবর্তী বিতর্কের আগেই তিনি এই বক্তব্য দিয়েছিলেন।

ভিক্টরকে কেবল সত্যজিৎ ও লিনের ছবির অভিনেতা হিসেবে দেখলে তাঁর কাজের বড় অংশ আড়ালে থেকে যায়। মৃণাল সেনের ‘মহাপৃথিবী’, শ্যাম বেনেগালের ‘কলিযুগ’ ও ‘আরোহণ’, জেমস আইভরির ‘হালাবালু ওভার জর্জি অ্যান্ড বনিস পিকচার্স’—বিভিন্ন নির্মাতার ভিন্ন চলচ্চিত্রভাষার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন তিনি। বাংলা বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রেও তিনি পরিচিত মুখ ছিলেন। ‘দুই পৃথিবী’, ‘একান্ত আপন’ ও ‘লাঠি’র মতো ছবিতে কাজ করেছেন তিনি। কখনো প্রধান চরিত্রে, কখনো পার্শ্বচরিত্রে। গত কয়েক বছরে ‘রক্তবীজ’ ও ‘রক্তবীজ ২’ ছবিতে তাঁকে দেখা গেছে রাষ্ট্রপতি অনিমেষ চট্টোপাধ্যায়ের ভূমিকায়। আশির দোরগোড়াতেও অভিনয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক অটুট। হিন্দি চলচ্চিত্রেও তাঁর কাজের তালিকা দীর্ঘ। রাম গোপাল ভার্মার ‘ভূত’ ও ‘সরকার রাজ’—দুটি ভিন্ন ঘরানার ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। পাশাপাশি ‘তা রা রাম পাম’ ও ‘আপনে’র মতো মূলধারার হিন্দি ছবিতেও দেখা গেছে তাঁকে।

চরিত্র বদলানোর এই অভিজ্ঞতাকে ভিক্টর খুব সহজভাবে ব্যাখ্যা করেন। আনন্দবাজারের সাক্ষাৎকারে এক চরিত্র ছেড়ে অন্য চরিত্র ধারণ করাকে তিনি পোশাক বদলানোর সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। কাজের মধ্যে আনন্দ খুঁজে পাওয়াকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দেন। নিজের সম্পর্কে তিনি বলেছেন, তিনি গুরুগম্ভীর শিল্পী নন।

অভিনয়ের পাশাপাশি তথ্যচিত্রের কাজেও জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন ভিক্টর। ভারত সরকারের পরিচিতিতে তাঁকে তিনবার জাতীয় পুরস্কারজয়ী শিল্পী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২২ সালে তাঁকে পদ্মভূষণে ভূষিত করা হয়। দলীয় রাজনীতিতেও পা রেখেছিলেন তিনি। ভারতীয় জনতা পার্টির হয়ে ১৯৯১ সালের লোকসভা নির্বাচনে কলকাতা উত্তর-পশ্চিম আসনে প্রার্থী হন, তবে জিততে পারেননি। বর্তমানে তিনি আর রাজনীতিতে সক্রিয় নন।

এত ছবিতে অভিনয় করলেও নিজের কাজ দেখার আগ্রহ তাঁর নেই বললেই চলে। ২০২৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে ভিক্টর জানিয়েছিলেন, নিজের অভিনীত ছবিগুলোর মধ্যে শুধু ‘ঘরে–বাইরে’ দেখেছেন। ‘দুই পৃথিবী’, ‘লাঠি’ কিংবা ‘একান্ত আপন’ও তাঁর দেখা হয়নি। ‘রক্তবীজ’ দেখেননি এবং ‘রক্তবীজ ২’ দেখারও ইচ্ছা ছিল না। কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, “ইচ্ছা করে না।”

প্রচারের ক্ষেত্রেও তাঁর একই অনীহা। সাক্ষাৎকার দিতে চান না কেন—এমন প্রশ্নে তিনি বলেছেন, অনেকেই তাঁর প্রথম ছবির নাম জানতে চান। সাক্ষাৎকারের আগে এই সামান্য খোঁজখবরও না নিলে তাঁদের সঙ্গে কথা বলে সময় ব্যয় করতে চান না তিনি। পর্দার বাইরের জীবনে বই ও পাহাড় তাঁকে বেশি টানে। ওই সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, নিরিবিলি পাহাড়ি পরিবেশে পড়াশোনা করে সময় কাটান তিনি। দর্শন ও শিল্প নিয়ে নানা প্রশ্নের উত্তর খোঁজেন ইন্টারনেটে। তাঁর কৌতূহলের তালিকা অত্যন্ত দীর্ঘ।