আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যেই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে মন্ত্রণালয় এই আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। পরবর্তীতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের ওই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বৈঠকে উপস্থাপিত বক্তব্যে জানানো হয়েছে যে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের প্রাথমিক ফিজিক্যাল ও ক্রিটিক্যালিটি টেস্ট সফলভাবে শুরু হয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার পর আশা করা হচ্ছে, আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যে এই মেগা প্রকল্প থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের ফুয়েল লোডিং বা রিঅ্যাক্টর চালুর প্রক্রিয়া আগামী বছরের জুন মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ এগিয়ে চলছে।

প্রকল্পটির নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের বিষয়ে বলা হয়েছে, এটি তৃতীয় প্রজন্মের (থার্ড জেনারেশন) একটি সর্বাধুনিক ও নিরাপদ পারমাণবিক প্ল্যান্ট। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে এবং বিশেষজ্ঞদের কঠোর তত্ত্বাবধানে এর প্রতিটি ধাপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ফলে এ নিয়ে কোনো ধরনের ভুল-বোঝাবুঝির অবকাশ নেই। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতেও প্রকল্পটি সঠিক পথেই রয়েছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি দেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে নিউক্লিয়ার মেডিসিনের সুফল জেলা পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ এবং দেশের প্রথম রিসার্চ ভেসেল (গবেষণা জাহাজ) নির্মাণের কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে বলেও বৈঠকে জানানো হয়। সভায় আশা প্রকাশ করা হয় যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সব কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হবে।

রুহুল কুদ্দুস তালুকদারের (দুলু) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে কমিটির সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, এ জেড এম রেজওয়ানুল হক, মো. আনোয়ারুল ইসলাম, মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী, কে এম বাবর, সানসিলা জেবরিন, সালাহ উদ্দিন, মারদিয়া মমতাজ ও মো. আবদুল গফুর।