নওগাঁর আত্রাই উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. শাকিল হোসেনসহ তিনজনকে গাঁজাসহ আটকের পর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে একদিনের কারাদণ্ড দেওয়ার ঘটনাটি জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় আত্রাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আতিকুর রহমান এই দণ্ডের রায় প্রদান করেন।

আদালতের রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত শাকিল হোসেন উপজেলার সাহেবগঞ্জ সরদারপাড়া এলাকার জাহিদুল ইসলামের ছেলে। তবে সাজাপ্রাপ্ত অপর দুই ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুরে নওগাঁ জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে আত্রাই উপজেলার ব্রিজ এলাকায় একটি মাদকবিরোধী অভিযান চালানো হয়। উক্ত অভিযানে ছাত্রদল নেতা শাকিলসহ তিনজনকে গাঁজাসহ আটক করা হয়। অভিযোগ উঠেছে যে, আটকের পরপরই তাদের মুক্তির জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে তদবির ও দেনদরবার শুরু হয়। পরবর্তীতে সন্ধ্যায় তাদের উপজেলা ভূমি অফিসে নিয়ে যাওয়া হলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাদের প্রত্যেককে একদিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।

সচেতন মহলের দাবি, প্রচলিত আইন অনুযায়ী মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধে নিয়মিত মামলা দায়ের করার বিধান থাকলেও এই ঘটনায় কেবল ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে লোকদেখানো সাজা দিয়ে পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সমঝোতার এই অভিযোগ অস্বীকার করে নওগাঁ জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম জানান, উদ্ধারকৃত গাঁজার পরিমাণ সামান্য থাকায় তাদের মোবাইল কোর্টে সোপর্দ করা হয়েছিল। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সাজা নির্ধারণের বিষয়টি সম্পূর্ণ বিচারকের এখতিয়ারের অন্তর্ভুক্ত।

অন্যদিকে, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আত্রাই উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আতিকুর রহমান জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা আসামিদের উপস্থিত করে প্রসিকিউশন দাখিল করায় আইনগত পরিধির আলোকেই বিচার সম্পন্ন করা হয়েছে।

পুরো ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে নওগাঁ জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মামুন বিন দোহা জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবহিত নন। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।