মাদারীপুর পৌর শহরের চকবাজার এলাকায় এক বিশাল আকৃতির মানকচু এখন সাধারণ মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। প্রায় ৮ ফুট উচ্চতার এই ব্যতিক্রমী কচুটির ওজন প্রায় ৪০ কেজি। এই অদ্ভুত ও বিশাল আকৃতির কচুটি দেখতে ভিড় করছেন সব বয়সী মানুষ। কেউ কেউ ছবি তুলছেন, আবার কেউবা খুব কাছ থেকে দেখে বিস্ময় প্রকাশ করছেন। অনেকের কাছেই জীবনে প্রথমবার এত বড় আকারের কচু দেখার অভিজ্ঞতা হয়ে দাঁড়িয়েছে এটি।
গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পৌর শহরের চকবাজার এলাকার সুমন হোটেল সংলগ্ন একটি দোকানের সামনে এই মানকচুটিকে রাখা হলে তা ঘিরে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়। বিশাল আকৃতির এই মানকচুর খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ সেটি দেখতে ভিড় করেন।
কচুটির বর্তমান ক্রেতা লুৎফর হোসেন জানান, তিনি ও তাঁর কয়েকজন বন্ধু মাদারীপুর সদর উপজেলার রাস্তি এলাকায় ঘুরতে গিয়েছিলেন। সেখানে লস্কর বাড়ির সামনে এই বিশাল কচুটি তাঁদের নজরে পড়ে। এর অস্বাভাবিক বড় আকার দেখে তাঁরা মুগ্ধ হন। এরপরই কচুটির মালিক সেলিম লস্করের কাছে সেটি কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেন তাঁরা। লুৎফর হোসেন জানান, প্রথমে মালিক বিক্রি করতে রাজি না হলেও পরে প্রায় দুই হাজার টাকায় কচুটি কিনে নেন তাঁরা। তবে বর্তমানে এই কচুটির দাম প্রায় পাঁচ হাজার টাকা হাঁকা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
লুৎফর হোসেন বলেন, “আমার বয়স ৫০ বছরের বেশি। জীবনে এত বড় কচু কখনো দেখিনি। প্রথমবার এমন কচু দেখে লোভ সামলাতে পারিনি। টাকার কথা না ভেবেই কিনে এনেছি। কচুটি নিয়ে আসার পর সন্ধ্যা থেকেই বিভিন্ন এলাকার মানুষ দেখতে আসছেন। বিষয়টি আমার কাছে খুবই ভালো লাগছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা আক্তার হোসেন বলেন, “ঘুরতে গিয়ে কচুটি চোখে পড়ে। এর আকার দেখে খুব ভালো লেগেছে। জীবনে প্রথম এত বড় কচু দেখলাম।”
কচুটি দেখতে আসা ৭০ বছর বয়সি হিতেনবালা বলেন, “জীবনের এতগুলো বছরেও এত বড় কচু দেখিনি। এটি দেখে খুব ভালো লাগছে। কৃষক নিশ্চয়ই অনেক যত্ন ও পরিচর্যা করে কচুটি ফলিয়েছেন। তাই এর কিছু অংশ কিনে মাছ দিয়ে রান্না করে খাব।”
ব্যতিক্রমী এই মানকচুটি এখন চকবাজার এলাকার মানুষের কাছে প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। বিশাল আকৃতির এই কচুটি একনজর দেখতে স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে দূর-দূরান্ত থেকে আসা কৌতূহলী মানুষের ভিড় জমছে।
অন্যদিকে, কচুটির মূল মালিক সেলিম লস্কর জানান, প্রায় ১০ বছর ধরে তিনি এই কচুটির লালন-পালন ও পরিচর্যা করে একে বড় করেছেন। ক্রেতারা কেনার জন্য প্রবল আগ্রহ দেখানোয় তিনি শেষ পর্যন্ত এটি বিক্রি করতে রাজি হন। তবে দীর্ঘদিনের যত্নে বড় করে তোলা প্রিয় কচুটিটি বিক্রি করার পর তাঁর মনে কিছুটা খারাপ লাগার অনুভূতিও কাজ করছে।