পুরান ঢাকার চকবাজার এলাকার মনজুর খান প্লাজা মার্কেটের একটি দোকানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘ চার ঘণ্টা চেষ্টা করেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়েছে ফায়ার সার্ভিস। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১০টি ইউনিট নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তবে সরু গলি, চারদিকে ছড়িয়ে পড়া প্রচণ্ড ধোঁয়া এবং পানির স্বল্পতার কারণে আগুন নেভানোর প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

আজ সোমবার রাত ১০টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণকক্ষে দায়িত্বপালনকারী কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম জানান, "সাততলা ভবনের ষষ্ঠ তলায় আগুন লেগেছে। সেখানে বিভিন্ন পণ্যের গুদাম রয়েছে। প্রতিটি গুদামই তালাবদ্ধ। তাই তালা ভেঙে ভেতরে গিয়ে আগুন নেভাতে সময় লাগছে।"

এর আগে রাত ৯টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণকক্ষের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা শাহজাহান হোসেন ইউনিটের সংখ্যা বাড়িয়ে ১০টি করার কথা জানান। তিনি বলেন, "সরু গলির কারণে ফায়ার সার্ভিসের বড় গাড়িগুলো ঘটনাস্থলে ঢুকতে পারছে না। প্রচণ্ড ধোঁয়া ও পানির স্বল্পতার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সমস্যা হচ্ছে। প্রয়োজনে ইউনিটের সংখ্যা আরও বাড়ানো হতে পারে।"

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, বিকেল পাঁচটার দিকে মনজুর খান প্লাজার ষষ্ঠ তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, বিকেল ৫টা ৪ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। এরপর বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে ইউনিটগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কার্যক্রম শুরু করে।

প্রাথমিকভাবে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করলেও পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে ইউনিটের সংখ্যা বাড়িয়ে নয়টি করা হয় এবং পরবর্তীতে তা ১০টিতে উন্নীত করা হয়।

তবে আগুনের প্রকৃত কারণ, কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না কিংবা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ঠিক কতটুকু, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য যে, গত বছরের ডিসেম্বরে পুরান ঢাকার চকবাজারের রহমতগঞ্জ এলাকার ডালপট্টিতে একটি তিন তলা আবাসিক ভবনের তৃতীয় তলায় একই ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল।