ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পচা ও খাওয়ার অনুপযোগী ডিম ব্যবহার করে বেকারি পণ্য তৈরির গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে এশিয়া বেকারির মালিকের ওপর এক লাখ টাকা জরিমানা আরোপ করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে সদর উপজেলার ভাদুঘর এলাকার এলহামপাড়ায় অবস্থিত উক্ত এশিয়া বেকারিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই অভিযানের সময় প্রতিষ্ঠানটিতে খাদ্যপণ্যের মান নিয়ে চরম অনিয়মের প্রমাণ পান পরিদর্শক দল। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটির মালিক আলী আজগরকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযান চলাকালীন দেখা যায় যে বেকারিটিতে পচা ডিম ব্যবহার করে খাদ্যপণ্য প্রস্তুত করা হচ্ছিল। জানা গেছে, তারা বিভিন্ন উৎস থেকে নষ্ট এবং খাওয়ার অনুপযোগী ডিম সংগ্রহ করত। এরপর সেই ডিমগুলোর দুর্গন্ধ দূর করার জন্য বিশেষ রাসায়নিক পদার্থ মিশিয়ে তা দিয়ে বেকারি পণ্য তৈরি করা হতো। অভিযানের সময় বেকারির মালিক নিজের দোষ স্বীকার করেন এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকার করে একটি মুচলেকা প্রদান করেন।

ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর বিধান অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং সেই অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়। একই সঙ্গে সতর্ক করে দেওয়া হয় যে, ভবিষ্যতে যদি এই ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটে, তবে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ইফতেখারুল আলম রিজভী জানান, “জনস্বার্থে ভেজাল ও অনিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং বিক্রির বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”