খোলাবাজারে পণ্য বিক্রির কর্মসূচি (ওএমএস) এবং খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। আজ বৃহস্পতিবার সংসদীয় কমিটিকে এই বিষয়ে বিস্তারিত অবহিত করা হয়েছে।
সংসদ সচিবালয় থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে আশা প্রকাশ করা হয় যে, নতুন এই নীতিমালা কার্যকর হলে ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিনের অস্বচ্ছতা দূর হবে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হবে।
বৈঠকে খাদ্য মন্ত্রণালয়সহ এর আওতাধীন বিভিন্ন অধিদপ্তর ও সংস্থার বর্তমান কার্যাবলি সম্পর্কে সংসদীয় কমিটিকে বিস্তারিত জানানো হয়। এসময় মন্ত্রণালয়ের এক গুরুতর সমস্যা হিসেবে জনবলঘাটতির বিষয়টি সামনে আসে। মন্ত্রণালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে বিভিন্ন পদে মোট ৬ হাজার ৬৫৩টি পদ শূন্য রয়েছে। এই সংকট নিরসনে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে অস্থায়ী জনবল নিয়োগের পরিবর্তে দ্রুত নিয়মিত নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শূন্য পদগুলো পূরণের সুপারিশ করেছে কমিটি।
অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে আবাদি জমির পরিমাণ ক্রমাগত হ্রাস পাওয়ার বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্বের সাথে আলোচিত হয়। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রণালয় জানায়, কৃষিজমির পরিমাণ সংরক্ষণ এবং অকৃষি কাজে কৃষিজমির অননুমোদিত ব্যবহার রোধ করতে কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
খাদ্যে ভেজাল রোধে সরকারের পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয় বৈঠকে। কমিটির সদস্য এবং খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আবদুল বারী বলেন, “খাদ্যে ভেজাল নিয়ন্ত্রণে বর্তমান সরকার অত্যন্ত সচেতন। এ লক্ষ্যে খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণের প্রতিটি পর্যায়ে কঠোর নজরদারি এবং বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধানের সীমাবদ্ধতা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”
খাদ্যের নিরাপত্তা ও মান নিশ্চিত করার বিষয়ে কমিটির সভাপতি আবদুস সালাম পিন্টু বলেন, ‘খাদ্য মানুষের মৌলিক অধিকার। জনগণের কাছে নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত খাদ্য পৌঁছে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব।’
সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি আবদুস সালাম পিন্টু। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম, আবুল কালাম, আবু তালেব মন্ডল, আবদুল করিম এবং শামছুন্নাহার বেগমসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।