জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের হার অত্যন্ত সন্তোষজনক এবং তারা দেশের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন পেশায় সফলভাবে কাজ করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ এস এম আমানুল্লাহ জানিয়েছেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৭ শতাংশ শিক্ষার্থী বর্তমানে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে বেকার তৈরির কারখানা বলা হয়, কিন্তু বাস্তবতা তা নয়।” উপাচার্যের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেশের অভ্যন্তরে এবং বিদেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে অবদান রাখছেন, যার ফলে দেশের রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতেও তাঁদের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।
আজ বুধবার রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী কলেজের অডিটোরিয়ামে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও গ্রামীণফোনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘কানেক্টিং এভরি ক্যাম্পাস’ সিম বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এই অনুষ্ঠানে ঢাকা বিভাগের স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও প্রফেশনাল পর্যায়ের মোট ৩৭০টি কলেজের অধ্যক্ষদের মাঝে সিম বিতরণ করা হয়।
শিক্ষার্থীদের বর্তমান চাকরির বাজারের উপযোগী করে গড়ে তুলতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলাম ও সিলেবাসে বড় ধরনের সংস্কার কার্যক্রম চলছে বলে জানান উপাচার্য। তিনি উল্লেখ করেন, পাঠ্যক্রম এমনভাবে সাজানো হচ্ছে যাতে শিক্ষার্থীরা চাকরির প্রতিযোগিতায় নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারে। পাশাপাশি কেবল চাকরির ওপর নির্ভর না করে নিজস্ব দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ঘরে বসেই আয় করার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সিলেবাস সংস্কারের বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে উপাচার্য বলেন, অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের সিলেবাস ভ্যালিডেশন শেষে আপলোড করা হয়েছে। প্রায় ৫০টি বিষয়ে পাঁচ হাজারের মতো কোর্স রয়েছে, যেগুলোর সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ইতিমধ্যে ৪০০টি কোর্সের সংস্কার সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে পাস কোর্সের সিলেবাস ভ্যালিডেশন শেষ করে তা আপলোড করা সম্ভব হবে।
শিক্ষার্থীদের তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ করার ওপর গুরুত্বারোপ করে এই উন্নয়ন গবেষক জানান, শিক্ষকদের আইসিটিবিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। যেসব কলেজে আইসিটি ল্যাব নেই, সেখানে ল্যাব স্থাপনের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইয়াসির আজমান আধুনিক প্রযুক্তি বিষয়ে উপাচার্যের জ্ঞান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রায় গ্রামীণফোন পাশে থাকবে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নানা সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করছেন উল্লেখ করে ইয়াসির আজমান বলেন, “সম্প্রতি এআই অলিম্পিয়াডে মফস্সলের শিক্ষার্থীদের ভালো ফল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।” তিনি আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন সুযোগ কাজে লাগিয়ে তরুণদের বৈশ্বিক মানের শিক্ষায় গড়ে তুলতে হবে। এই লক্ষ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশাল শিক্ষাপরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজিটাল সমাধান ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দিতে গ্রামীণফোন প্রস্তুত।
‘কানেক্টিং এভরি ক্যাম্পাস’ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোকে ডিজিটালভাবে সংযুক্ত করা। এর মাধ্যমে কলেজগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের পাশাপাশি ডিজিটাল শিক্ষাসহায়ক বিভিন্ন সুবিধা লাভ করবে।
অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল–হোসেন, প্রকৌশল দপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান এবং সিদ্ধেশ্বরী কলেজের অধ্যক্ষ শেখ মো. জুলহাস উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্র সমন্বয় দপ্তরের পরিচালক মো. আমিনুল আক্তার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শিক্ষক প্রশিক্ষণ দপ্তরের পরিচালক সালমা পারভীন এবং আঞ্চলিক কেন্দ্র সমন্বয় দপ্তরের উপপরিচালক মো. আকরাম হোসেন।