যানজট নিরসনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির প্রয়োগ, সড়ক ও ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত করা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষ্যে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) মডেলের আওতায় আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি অপরাধ শনাক্তকরণের পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে নগর পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নতুন কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে নগর ভবনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে কেসিসির পরিচালনা কমিটির ১৪তম সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
সভায় নগরীর যানজট নিরসন, সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্নতা এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এসব ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে নিয়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সভায় স্যুয়ারেজ লাইন স্থাপনের জন্য খুলনা ওয়াসার খনন করা সড়ক মেরামতের বিষয়ে প্রস্তুত করা সমঝোতা স্মারকে কেসিসির শর্তাবলি অনুমোদন দেওয়া হয়। এছাড়া কেসিসির মালিকানাধীন ভবনগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়।
নগরীর সড়ক ও ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত করার পাশাপাশি বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই লক্ষ্যে প্রাণিসম্পদ বিভাগের সহযোগিতায় একটি কমিটি গঠন করা হবে।
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে মশক নিধনের ওষুধ কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ডিরেক্ট প্রকিউরমেন্ট মেথড (ডিপিএম) বা সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড থেকে এসব ওষুধ কেনা হবে। পাশাপাশি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ইউনিপোল, বিলবোর্ড, প্যানা ও ফেস্টুনের মাধ্যমে জনসচেতনতামূলক প্রচার চালানো হবে।
নগর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করতে কেসিসির কনজারভেন্সি শাখার ঝাড়ুদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মীদের দৈনিক চার ঘণ্টা করে দুই শিফটে কাজ করানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাড়ি বাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহে নিয়োজিত এনজিও, সিবিও, বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তি উদ্যোক্তার ভ্যানচালকদের তালিকাভুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমে শৃঙ্খলা আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য অ্যাপ্রোন তৈরির সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে।
সভায় শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মগর রহমানের নামে খুলনা কলেজিয়েট গার্লস স্কুল ও কেসিসি উইমেন্স কলেজের বিজ্ঞান ভবনের নামকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া ময়লাপোতা মোড়সহ কেডিএ এভিনিউর নাম পরিবর্তন করে ‘বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম সরণি’ করার বিষয়ে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (কেডিএ) চিঠি পাঠানোর কথা জানানো হয়।
কেসিসি মার্কেট উপআইন, ২০১৪-এর সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী গঠিত দোকান বরাদ্দ কমিটির সুপারিশও সভায় অনুমোদন করা হয়। সোনাডাঙ্গা ট্রাক টার্মিনাল ও কেসিসি পাইকারি কাঁচাবাজারে মালামাল পরিবহনে ব্যবহৃত ইজিবাইক থেকে দৈনিক ১০ টাকা হারে টোল আদায়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
নতুন কেনা ছোট প্লেট কম্প্যাক্টর, রিভার্সিবল প্লেট কম্প্যাক্টর এবং প্রাইম মুভার উইথ লো-বেড ট্রেইলারের ভাড়া নির্ধারণে অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হবে। এছাড়া হোল্ডিংয়ের নামজারি ফি নির্ধারণেও তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদের পরিচালনায় সভায় কেএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ খালেদ, খুলনা ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আক্তার হোসেন, কেডিএর সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) এম এম মাহমুদুর রহমান, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের উপব্যবস্থাপক (প্রশাসন) এস এম মাইদুল ইসলাম, খুলনা জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার মো. জাকারিয়া, বিটিসিএলের ডিজিএম এস এম সাদমান রহমান, গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মাহমুদুল হকসহ কেসিসির বিভিন্ন বিভাগ ও শাখার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।