স্পোর্টি লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড ‘লোটো’ বাংলাদেশে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমের ১৫ বছর পূর্ণ করেছে। এই বিশেষ মাইলফলকটি উদ্‌যাপনের লক্ষ্যে ৭ অক্টোবর ঢাকার গুলশান ক্লাবে এক জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধি, ব্যবসায়িক অংশীদার এবং লোটো বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ব্র্যান্ডটির দীর্ঘ ১৫ বছরের অগ্রযাত্রা, অর্জিত সাফল্য এবং আগামী দিনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়।

দেশের সাধারণ গ্রাহকদের কাছে আন্তর্জাতিক মানের ফুটওয়্যার, অ্যাপারেল ও অ্যাকসেসরিজ পণ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে এই ব্র্যান্ডটি। বর্তমানে সারা দেশে লোটোর ১৩৭টি ফ্ল্যাগশিপ এবং ১১০টি ফ্র্যাঞ্চাইজিসহ মোট ২৪৭টি আউটলেট চালু রয়েছে।

১৫তম বর্ষপূর্তির এই বিশেষ মুহূর্তে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একটি নতুন কারখানার উদ্বোধন করেছে লোটো বাংলাদেশ। আধুনিক প্রযুক্তি এবং দক্ষ জনবলের সমন্বয়ে গঠিত এই কারখানায় টিপিআর, ইভিএ, পিইউ ও পিভিসি–ভিত্তিক স্পোর্টস ও লেদার ফুটওয়্যার উৎপাদিত হবে। প্রতিষ্ঠানটি আশাবাদী যে, বিশ্বমানের এই কারখানাটি কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারই নয়, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে আরও একটি বিশেষ ঘোষণা দেওয়া হয়। লোটো বাংলাদেশ সারা দেশে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং স্থানীয় ব্যবসার বিকাশে ‘উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মসূচি’ (এন্টারপ্রেনিউর ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম) চালু করতে যাচ্ছে। এই উদ্যোগের আওতায় দেশের বিভিন্ন স্থানীয় পর্যায়ে সম্ভাবনাময় তরুণদের চিহ্নিত করে তাদের টেকসই ব্যবসার রূপরেখা প্রদান করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, যারা সফল উদ্যোক্তা হয়ে উঠবেন, তারা আগামী ১০ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ২০টি পর্যন্ত দোকানের একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে পারবেন। এর ফলে ব্র্যান্ডটির খুচরা বিক্রয় নেটওয়ার্ক সম্প্রসারিত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।

লোটো বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী জামিল ইসলাম বলেন, ‘একজন গ্রাহক দিয়ে শুরু করা এই দীর্ঘ পথচলার মূল শক্তিই ছিল ক্রেতাদের অকৃত্রিম বিশ্বাস। আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি এ দেশের তরুণ সমাজ। সঠিক সুযোগ ও দিকনির্দেশনা পেলে এই তরুণ উদ্যোক্তারাই নতুন কর্মসংস্থান তৈরির পাশাপাশি বাংলাদেশের নাম বিশ্বদরবারে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে বলে আমাদের বিশ্বাস।’