প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র কথা কাটাকাটি শুরু হয়েছে। রাশেদ খাঁনের ফেসবুক পেজে দেওয়া একটি পোস্টের বিপরীতে সারজিস আলম সরাসরি মন্তব্য করে তাকে আক্রমণ করেছেন।
গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত ৯টা ৪৮ মিনিটে রাশেদ খাঁন তার ফেসবুক পাতায় একটি পোস্ট করেন। ওই পোস্টে তিনি সারজিস আলমের অতীত কর্মকাণ্ড এবং রাজনৈতিক আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। রাশেদ খাঁন তার পোস্টে লিখেছেন, “ছাত্রলীগের একটা কর্মী পদের জন্য যে সারজিস আলম প্রতিদিন সাদ্দাম-ইনানের পা চাটতো, সেও আজকে আমাদের নিয়ে বড় বড় কথা বলে। শেখ মুজিবুর রহমানকে বাপ ডেকেও যার একটা পদ হয়নি, সেই পা-চাটা সারজিস আলম কোন লজ্জায় আমাদের নিয়ে কটাক্ষ করে?”
আন্দোলন ও সংগ্রাম নিয়ে সারজিস আলমের সমালোচনা করে রাশেদ আরও দাবি করেন যে, গণঅভ্যুত্থানের সময় সারজিস আলমের বাহ্যিক অবয়বে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তিনি লেখেন, “গণঅভ্যুত্থানের সময় যার চুলের স্পাইক পর্যন্ত নষ্ট হয়নি, পাঞ্জাবির আয়রনের ভাঁজ পর্যন্ত ভাঙেনি, ডিবি অফিসে জুস খেতে খেতে যে ঘটনাচক্রে নেতা হয়ে গেছে, সেও আমাদের আন্দোলন সংগ্রাম নিয়ে প্রশ্ন তোলে। আমরা নাকি ১৮ সালে শেখ হাসিনার সঙ্গে আপস করে সরকার পতন না ঘটিয়ে শুধুমাত্র কোটা সংস্কার আন্দোলন করেছি।”
নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে রাশেদ খাঁন আরও উল্লেখ করেন, “আচ্ছা ধরেই নিলাম, আমরা আপস করেছিলাম। কিন্তু ২০১৮ সালের পরে আমরা যেসময় শেখ হাসিনাবিরোধী লড়াইয়ে নেমেছি, ক্যাম্পাসে অসংখ্যবার মাইর খেয়েছি, তখন এই সারজিস আলম শেখ মুজিবুর রহমানকে বাপ ডাকতে ডাকতে ফেনা তুলে ফেলেছে।”
সারজিস আলমের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রীদের সাথে আঁতাতের অভিযোগও তোলেন তিনি। রাশেদ খাঁনের ভাষায়, “জুলাই গাদ্দার সারজিস আলম শহীদের রক্ত মাড়িয়ে আওয়ামী লীগের মন্ত্রীদের সাথে বৈঠকে বসে, এটা কি জাতি ভুলে গেছে? জাতি কি ভুলে গেছে, নাহিদ-আসিফকে তুলে নেওয়া কিংবা ডিবি হেফাজতে নেওয়ার পরেও কারফিউয়ের মধ্যে সারজিস-হাসনাত গোয়েন্দা সংস্থার গাড়ি করে ঘুরে বেড়িয়েছে।”
রাশেদ খাঁনের এই আক্রমণাত্মক পোস্টের পর নীরব থাকেননি সারজিস আলম। তিনি ওই পোস্টের কমেন্ট বক্সে পাল্টা জবাব দিয়েছেন। সারজিস আলম সেখানে লিখেছেন, “যত যাই বলেন না কেন ভাই, যতই ফুটেজ খাওয়ার চেষ্টা করেন; মানুষ আপনাকে দুই টাকারও দাম দেয় না।”