প্রশাসনের মূল কেন্দ্র বাংলাদেশ সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনে এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের কারণে এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে দ্রুত পদক্ষেপের ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন নেভানো সম্ভব হয়েছে। এই ঘটনায় কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

ফায়ার সার্ভিসের কর্তব্যরত কর্মকর্তা রোজিনা আক্তার জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ৪২ মিনিটে সচিবালয়ে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনের দ্বিতীয় তলার বাথরুমের ওপরের ছাদের অংশে আগুন লাগে।” খবর পাওয়ার পরপরই সচিবালয়ের ভেতরে অবস্থানরত ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয়। তবে তাদের পৌঁছানোর আগেই আগুন নিভে যায়।

আগুনের কারণ সম্পর্কে রোজিনা আক্তার বলেন, “বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।”

উল্লেখ্য যে, এর আগে ২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর গভীর রাতে সচিবালয়ে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। সেবার ৭ নম্বর ভবনের ষষ্ঠ তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিসের ১৯টি ইউনিটের টানা ছয় ঘণ্টার দীর্ঘ প্রচেষ্টায় সেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছিল। ওই অগ্নিকাণ্ডে ভবনটির চারটি তলায় অবস্থিত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়; সড়ক পরিবহন ও সেতু, ডাক ও টেলিযোগাযোগ, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, কম্পিউটার ও আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এছাড়া ভবনের দেয়াল ও মেঝের ব্যাপক ক্ষতি হয়। সেই আগুন নেভানোর কাজ চলাকালীন ট্রাকচাপায় মো. সোহানুর জামান নামে ফায়ার সার্ভিসের এক সদস্য প্রাণ হারান।

তৎকালীন অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে গঠিত কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, ভয়াবহ সেই আগুনের সূত্রপাত হয় বৈদ্যুতিক স্পার্ক (স্ফুলিঙ্গ) থেকে। সাধারণত সকেট-প্লাগে লুজ কানেকশন (দুর্বল সংযোগ) কিংবা কেবলে ত্রুটিপূর্ণ সংযোগের কারণে এই ধরনের বৈদ্যুতিক স্পার্ক হয়ে থাকে। তদন্ত প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, ওই ঘটনায় কোনো বিস্ফোরকের উপস্থিতি শনাক্ত করা যায়নি।