রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দলীয়করণের অভিযোগ তুলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে তালা দেওয়ার ঘটনাটি এখন আইনি লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। এই ঘটনায় দায়ের করা মামলাকে সম্পূর্ণ পরিকল্পিত বলে দাবি করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) উক্ত মামলার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে এনসিপির নেতা আতিকুর রহমান জানান, সার ডিলার নিয়োগে যে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, তা তুলে ধরে প্রতিবাদ জানানোই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। তিনি মনে করেন, এই ন্যায়সঙ্গত প্রতিবাদের মুখে তাদের কণ্ঠরোধ করতেই পরিকল্পিতভাবে এই মামলা করা হয়েছে।

আতিকুর রহমান আরও স্পষ্টভাবে বলেন, “মামলা করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিবাদ দমিয়ে রাখা যাবে না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজনে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”

ঘটনার সূত্রপাত হয় সোমবার (১২ অক্টোবর), যখন সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও দলীয়করণের অভিযোগ তুলে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহানের অপসারণ দাবি করে এনসিপির নেতাকর্মীরা তার কার্যালয় ঘেরাও করেন। আন্দোলনের এক পর্যায়ে তারা উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে অবস্থান নেন। এর ফলে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে সমস্ত প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে, যার ফলে সরকারি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হন।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সোমবার রাতেই গোদাগাড়ী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা প্রশাসনের উপসহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোক্তার হোসেন বাদী হয়ে এই মামলাটি করেন। উক্ত মামলায় সাতজনের নাম নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

সার ডিলার নিয়োগের অনিয়ম এবং পরবর্তীতে দায়ের করা এই মামলার ফলে বর্তমানে গোদাগাড়ীতে স্থানীয় প্রশাসন ও জাতীয় নাগরিক পার্টির মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।