সংবাদের প্রাসঙ্গিকতা এবং গুরুত্ব বিবেচনা করে সংবাদ পরিবেশন করার জন্য বাংলাদেশ টেলিভিশনকে (বিটিভি) বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। একই সাথে রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ একটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিটিভির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যগুলো আরও সুনির্দিষ্ট করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে এই কমিটি।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির এক সভায় এসব নির্দেশনা ও সুপারিশ প্রদান করা হয়। সভা শেষে সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিটিভির মাধ্যমে প্রচারিত অনুষ্ঠান এবং সংবাদের সামাজিক প্রভাব কতটুকু, তা বিবেচনায় নেওয়ার বিষয়ে কমিটির সদস্যরা গুরুত্ব দিয়েছেন। বিটিভির দায়িত্ব ও ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করে তাঁরা বলেন, “বিটিভির উদ্দেশ্য কোনো বাণিজ্যিক টেলিভিশন চ্যানেলে রূপান্তরিত হওয়া নয়; বরং রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা।” এই লক্ষ্য অর্জনে প্রতিষ্ঠানটির উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যসমূহ সুনির্দিষ্ট করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।

সভায় সংবাদের গুরুত্ব ও প্রাসঙ্গিকতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করার পাশাপাশি সাধারণ জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে এমন অনুষ্ঠান নির্মাণ ও প্রচারের ওপর জোর দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মাধ্যমে সংরক্ষিত জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্যচিত্র ও প্রামাণ্য দলিলে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির পাশাপাশি “১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মতো নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থান ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।”

বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থায় গত ১৭ বছরে অনৈতিকভাবে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে এমন কর্মকর্তাদের তালিকা এবং যারা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তাঁদের নাম ও পদবিসহ তালিকা পরবর্তী সভায় উপস্থাপনের বিষয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি বাতিল করা বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কর্মসূচির তালিকাও উপস্থাপনের কথা বলা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিচালিত সকল কার্যক্রমে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এছাড়া বিটিভি ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যেন নির্বিঘ্নে ও স্বাধীনভাবে তাদের ধর্মীয় উৎসব উদ্‌যাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা এবং সক্রিয় ভূমিকা রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

কমিটির সভাপতি আমানউল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, আশরাফ উদ্দিন, মজিবুর রহমান, নিলোফার চৌধুরী মনি, ফাহমিদা হক, মো. শফিকুল ইসলাম ও নাজমুন নাহার।