কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে প্রায় ২৫ কেজি সোনা-রুপা এবং ১৭টি ভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গেছে। গতকাল সোমবার সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এসব মূল্যবান সামগ্রীর ওজন নির্ধারণ, সোনার ক্যারেট যাচাই এবং বৈদেশিক মুদ্রা গণনার কাজ সম্পন্ন করা হয়। সম্পূর্ণ কার্যক্রমটি জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়েছে।

গণনা ও পরিমাপের সময় ১ হাজার ৪৪ ভরি স্বর্ণালংকার (যার ওজন প্রায় ১২ দশমিক ১৮ কেজি) এবং ১ হাজার ৮৮ ভরি রুপার (যার ওজন প্রায় ১২ দশমিক ৬৯ কেজি) কথা জানা গেছে। সব মিলিয়ে স্বর্ণালংকার ও রুপার মোট ওজন দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৪ দশমিক ৮৭ কেজি।

জেলা প্রশাসন ও মসজিদ কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, দানবাক্স থেকে সংগৃহীত এই স্বর্ণালংকার, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রাগুলো জেলা প্রশাসনের ট্রেজারিতে সিলগালা অবস্থায় সংরক্ষিত ছিল। কার্যক্রম শুরুর পর প্রথমে ট্রেজারিতে রাখা ৯টি মাঝারি আকারের প্লাস্টিকের কনটেইনার এবং ৬টি সিলগালা করা খাম খুলে সব সামগ্রীকে আলাদা করা হয়।

মসজিদ কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যানুসারে, দানবাক্সে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার তালিকায় রয়েছে ৮ হাজার ৫৭ মার্কিন ডলার, ৫৭ হাজার ৪১৪ সৌদি রিয়াল, ৩৭ হাজার ৮৭৭ ভারতীয় রুপি, ২৯ হাজার ৬৬২ মালয়েশীয় রিঙ্গিত, ১৪ হাজার ২৪০ আমিরাতের দিরহাম, ৭৬৭ কুয়েতি দিনার, ৮৮৮ ওমানি রিয়াল, ৭ হাজার ৯৭৩ কাতারি রিয়াল, ৩৩৩ বাহরাইনি দিনার, এক হাজার ৭১৮ সিঙ্গাপুর ডলার, এক হাজার ২২০ ব্রিটিশ পাউন্ড, ৫ হাজার ২৪৫ ইউরো, ৫৫৫ অস্ট্রেলীয় ডলার, ২৫ কানাডীয় ডলার, ৯০০ মালদ্বীপের রুফিয়া ও ৩০৫ চীনা ইউয়ান। এছাড়া বিভিন্ন দেশের ২ হাজার ৬৬৭টি ধাতব মুদ্রাও পাওয়া গেছে।

জেলা প্রশাসন ও মসজিদ কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, প্রায় ছয় বছর পর কিশোরগঞ্জের এই ঐতিহাসিক মসজিদের দানবাক্সে জমা হওয়া সোনা, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রার ওজন নির্ধারণ ও গণনার এই প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। সোমবার সকাল ১০টার দিকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এই কার্যক্রম শুরু হয়।

জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে গঠিত ৯ সদস্যের একটি উপকমিটির তত্ত্বাবধানে এই পুরো কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। এতে জেলা প্রশাসনের তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, আনসার, ব্যাংক কর্মকর্তা ও স্বর্ণকারেরা সহযোগিতা করেছেন। এছাড়া জেলা জুয়েলারি সমিতির ১০ জন সদস্য স্বর্ণালংকার ও রুপার সঠিক ওজন নির্ধারণ ও পরিমাপের কাজ করেন।

ওজন নির্ধারণ ও গণনা শেষ করার পর এসব স্বর্ণালংকার ও রুপার বর্তমান বাজারমূল্য নির্ধারণ করে তা নিলামে বিক্রি করা হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বৈদেশিক মুদ্রাগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ বিনিময় হার অনুযায়ী নগদায়ন করা হবে।

উল্লেখ্য যে, এর আগে ২০২০ সালের ১১ মার্চ পাগলা মসজিদের দানসিন্দুকে পাওয়া স্বর্ণালংকার ও রুপা ১ কোটি ১৫ লাখ ৪ হাজার ৯০০ টাকায় নিলামে বিক্রি করা হয়েছিল। সে সময় প্রায় ৩ বছর ধরে দানসিন্দুকে জমা হওয়া ৪১৫ ভরি স্বর্ণালংকার ও ১৮৪ ভরি রুপা বিক্রি করা হয়।