কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে ১৫টি ভিন্ন ভিন্ন দেশের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে সৌদি রিয়াল ৫৭ হাজার ৪১৪টি, ভারতীয় রুপি ৩৭ হাজার ৮৭৭টি এবং মালয়েশীয় রিংগিত ২৯ হাজার ৬৬২টি পাওয়া গেছে। এছাড়া আমেরিকান ডলার, ইউরো এবং ব্রিটিশ পাউন্ডসহ আরও বেশ কিছু দেশের মুদ্রা এই দানবাক্সে জমা পড়েছে।

গত সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল পৌনে ১০টা থেকে জেলা প্রশাসনের বিশেষ তত্ত্বাবধানে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এসব মূল্যবান সামগ্রীর ওজন নির্ধারণ, স্বর্ণের ক্যারেট যাচাই এবং বৈদেশিক মুদ্রা গণনার প্রক্রিয়া শুরু হয়। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে স্বর্ণ ও রুপার অলংকারের ওজন নির্ধারণের কাজ সম্পন্ন হলেও বৈদেশিক মুদ্রার বিস্তারিত গণনা ও হিসাব চূড়ান্ত করতে রাত ১০টা পর্যন্ত সময় লেগেছে।

গণনা শেষে জানা গেছে, বিভিন্ন দেশের মুদ্রার মধ্যে রয়েছে আমেরিকান ডলার ৮ হাজার ৫৭টি, সৌদি রিয়াল ৫৭ হাজার ৪১৪টি, মালয়েশিয়ান রিংগিত ২৯ হাজার ৬৬২টি, আমিরাতের দিরহাম ১৪ হাজার ২৪০টি, কুয়েতি দিনার ৭৬৭টি, ওমানি রিয়াল ৮৮৮টি, কাতারি রিয়াল ৭ হাজার ৯৭৩টি, বাহরাইনি দিনার ৩৩৩টি, সিঙ্গাপুর ডলার ১ হাজার ৭১৮টি, ব্রিটিশ পাউন্ড ১ হাজার ২২০টি, ইউরো ৫ হাজার ২৪৫টি, অস্ট্রেলিয়ান ডলার ৫৫৫টি, কানাডিয়ান ডলার ২৫টি, মালদ্বীপের রুফিয়া ৯০০টি, ভারতীয় রুপি ৩৭ হাজার ৮৭৭টি এবং চীনা ইউয়ান ৩০৫টি। এর পাশাপাশি অচিহ্নিত বিভিন্ন দেশের ২ হাজার ৬৬৭টি ধাতব মুদ্রাও পাওয়া গেছে।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদ জানান, "গত ছয় বছরে পাগলা মসজিদের দানবাক্সে জমা পড়া স্বর্ণের পরিমাণ ১২ কেজি ১৭৪ গ্রাম এবং রুপার পরিমাণ ১২ কেজি ৬৯০ গ্রাম।"

দীর্ঘ ছয় বছর পর দানবাক্সে জমা হওয়া স্বর্ণ, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ নির্ধারণের লক্ষ্যে এই বিশেষ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ট্রেজারিতে সংরক্ষিত নয়টি মাঝারি আকারের প্লাস্টিকের কনটেইনার এবং ছয়টি সিলগালা করা খাম খুলে এসব সামগ্রী গণনা ও পরিমাপ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে গঠিত নয় সদস্যের একটি উপকমিটির তত্ত্বাবধানে এই পুরো কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, আনসার, ব্যাংক কর্মকর্তা ও স্বর্ণকারেরা সহযোগিতা করছেন। এছাড়া জেলা জুয়েলারি সমিতির ১০ জন সদস্য স্বর্ণ ও রুপার অলংকারের ওজন নির্ধারণ ও পরিমাপের কাজ সম্পন্ন করেছেন।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্বর্ণ ও রুপার বর্তমান বাজারমূল্য নির্ধারণের পর নিলামের মাধ্যমে অলংকারগুলো বিক্রি করা হবে। আর বৈদেশিক মুদ্রাগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ বিনিময় হার অনুযায়ী নগদায়ন করা হবে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এর আগে ২০২০ সালের ১১ মার্চ পাগলা মসজিদের দানসিন্দুকে জমা পড়া ৪২০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও ১৮৮ ভরি রুপার অলংকার নিলামে বিক্রি করা হয়েছিল। সেই সময়ে সেগুলো বিক্রি করে ১ কোটি ১৫ লাখ ৪ হাজার ১১০ টাকা পাওয়া যায়। এছাড়া তৎকালীন দানসিন্দুকে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রা বিক্রি করে ৭০ লাখ টাকা অর্জিত হয়েছিল।

সর্বশেষ চলতি বছরের ২৭ জুন পাগলা মসজিদের দানবাক্স খোলা হয়েছিল। ওই সময়ে ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার টাকা পাওয়া যায়। এরপর থেকে দানবাক্সে জমা হওয়া স্বর্ণ, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ নির্ধারণের কার্যক্রম চলছিল।

অন্যদিকে, পাগলা মসজিদের নিজস্ব ওয়েবসাইট চালুর পর থেকে অনলাইনে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে মোট ৩৯ লাখ ৩২ হাজার ১০৬ টাকা অনুদান পাওয়া গেছে।