কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের আওতায় পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর ২টায় উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে এক অবহিতকরণ সভার আয়োজন করা হয়, যেখানে এই কার্যক্রমের বিস্তারিত দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হয়। সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হারুন অর রশিদ স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দিয়ে জানান, তথ্য সংগ্রহের কাজে কোনো কর্মী অনিয়মে লিপ্ত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দেশব্যাপী পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ডের জন্য যোগ্য উপকারভোগী নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ কার্যক্রমের আওতায় আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করে তা অনলাইন ডেটাবেইজে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করার জন্য মোট ৬৬ হাজার ৮১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী এবং ৬ হাজার ৬৮১ জন সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

চলতি অর্থবছরে নতুন করে ৪০ লাখ নারী পরিবার প্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান এবং ভাতা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পর্যায়ক্রমে পরবর্তী তিন অর্থবছরের মধ্যে যোগ্য সকল নারী পরিবার প্রধানকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।

সোমবার দুপুর ২টায় ঢাকার সচিবালয় থেকে জুম অ্যাপের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে আয়োজিত অবহিতকরণ সভায় যুক্ত হয়ে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে স্থানীয় পর্যায়ের এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উক্ত সভায় ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ পদ্ধতি, উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং সামগ্রিক কার্যক্রম বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়।

সভায় জানানো হয়, তথ্য সংগ্রহকারীরা বিশেষায়িত ট্যাবলেট ডিভাইস ব্যবহার করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরেজমিনে পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করবেন। সংগৃহীত এই তথ্যগুলো সরাসরি অনলাইন ডেটাবেইজে যুক্ত করা হবে। এই পুরো কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড খানা তথ্যভাণ্ডারের তথ্য সংগ্রহ নির্দেশিকা, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এছাড়া তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের জন্য প্রথম পর্যায়ের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে মোবাইল সিম কার্ড সংগ্রহ, নেটওয়ার্কভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, দক্ষ কর্মী ব্যবস্থাপনা এবং নেটওয়ার্ক অপারেশন সেন্টার (এনওসি) স্থাপনসহ যাবতীয় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।

সংগৃহীত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পিএমটি (প্রক্সি মিনস টেস্টিং) পদ্ধতিতে যোগ্য উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে। এই বিশেষ পদ্ধতিতে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিবেচনা করে ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার যোগ্য পরিবার প্রধানদের চিহ্নিত করা হবে।

ফ্যামিলি কার্ডটিতে ডুয়াল চিপ, কিউআর কোড এবং নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন (এনএফসি) সুবিধা থাকবে। কার্ডটি সরকারের অর্থ প্রদানের পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকবে। এর ফলে উপকারভোগীরা ব্যাংকের এটিএম বুথ, বিপণিবিতানের পয়েন্ট অব সেলস (পিওএস) এবং মোবাইল ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিসেসের (এমএফএস) মাধ্যমে খুব সহজেই ভাতার টাকা তুলতে পারবেন।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হারুন অর রশিদ তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের দায়িত্ব এবং কাজ করার সঠিক পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এসময় তিনি পুরো কার্যক্রমটি সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে গণমাধ্যমকর্মীদের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।

তিনি বলেন, “ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে কোনো তথ্য সংগ্রহকারী বা সুপারভাইজার অনিয়মে জড়িত হলে তাকে শাস্তির আওতায় আনা হবে।” অনিয়মের তথ্য দিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা সহযোগিতা করলে তাদের পুরস্কৃত করা হবে বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন ইউএনও হারুন অর রশিদ।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আব্দুল লতিফ শেখ, সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বিপ্লবসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়া জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা এই সভায় উপস্থিত ছিলেন।