কক্ষের এক কোণে রাখা স্টিলের র্যাকে সাজানো শার্ট, প্যান্ট ও লুঙ্গি। একটু দূরে চার-পাঁচটি চেয়ার ও একটি টেবিল। টেবিলের ওপর পানির বোতল, খাবারের বাটিসহ নানা জিনিসপত্র। পাশেই বড় একটি খাট, বিছানার ওপর দুটি বালিশ। এই দৃশ্য দেখে মনে হওয়া স্বাভাবিক, এটি কোনো শোবার ঘর।
কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। কক্ষটি কোনো শোবার ঘর নয়, বরং সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার সরকারি হাজী কোরপ আলী মেমোরিয়াল কলেজের ২১১ নম্বর শ্রেণিকক্ষ। যে কক্ষে শিক্ষার্থীদের বসার জন্য বেঞ্চ ও টেবিল থাকার কথা, সেখানে খাটসহ আবাসিক কক্ষের নানা সরঞ্জাম রাখা হয়েছে।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. জাহাঙ্গীর আলম এই কক্ষটি ব্যবহার করেন। তবে তিনি দাবি করেছেন যে, এই কক্ষে তিনি রাত্রিযাপন করেন না।
আজ সোমবার সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. জাহাঙ্গীর আলমকে ওই কক্ষে দেখা যায়। অভিযোগ উঠেছে যে, বাসাভাড়াসহ বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়া সত্ত্বেও তিনি নিজের ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য শ্রেণিকক্ষে খাট, চেয়ার ও টেবিল স্থাপন করেছেন। কলেজের কয়েকজন শিক্ষকের দাবি, প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে কক্ষটি এভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
শ্রেণিকক্ষের এমন ব্যবহারের বিষয়ে কলেজের একাধিক শিক্ষকের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষক জানান, অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম ১৫তম বিসিএসের মাধ্যমে শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দিয়েছেন। তিনি একজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক এবং এর আগে বিভিন্ন কলেজে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর মতো একজন অভিজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষকের কাছ থেকে তাঁরা আরও দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করেন।
একজন শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘স্যার অনেক সিনিয়র একজন শিক্ষক। তিনি এর আগে অন্য কলেজেও ছিলেন। কিন্তু তাঁর কিছু কর্মকাণ্ড আমাদের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে দিয়েছে। সরকারি বাসাভাড়ার সুবিধা পাওয়ার পরও শ্রেণিকক্ষে খাট, চেয়ার-টেবিল রেখে সেটি ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহারের বিষয়টি আমাদের কাছে দৃষ্টিকটু মনে হয়।’
তবে শ্রেণিকক্ষে রাতযাপনের অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম। তাঁর দাবি, কক্ষটিতে তিনি রাত কাটান না; মাঝেমধ্যে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য সেখানে এসব জিনিস রাখা হয়েছে। তাঁর ভাষ্যমতে, কলেজে মৌখিক পরীক্ষা নিতে আসা অতিথি শিক্ষকদের থাকার ব্যবস্থার জন্যও কক্ষটি প্রস্তুত করা হয়েছে।
শ্রেণিকক্ষ অধ্যক্ষের ব্যক্তিগত ব্যবহারের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপাশা হোসাইন বলেন, ‘বিষয়টি আপনার মাধ্যমেই প্রথম শুনলাম। আমি বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেব।’
এই বিষয়ে জানতে চাইলে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) রোজিনা আক্তার মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘কামারখন্দের ইউএনওকে এ বিষয়টি সরেজমিনে দেখতে বলব। সেই সঙ্গে এমনটি হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’