ছোট ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে হেঁটে বাসায় ফিরছিলেন রীনা রানী ঘোষ (৪০)। রাজধানীর ওয়ারীর টিকাটুলিতে পদচারী–সেতুর নিচে রাস্তা পার হওয়ার সময় দুই বাসের পাল্লাপাল্লিতে একটির ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনি।

আজ সোমবার বেলা দেড়টার দিকে টিকাটুলি পদচারী–সেতুর নিচে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দোয়েল পরিবহনের বাসটি জব্দ এবং এর চালককে আটক করেছে পুলিশ।

নিহত রীনা রানী ঘোষের বড় ছেলে প্রণয় ঘোষ প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর ছোট ভাই নবাবপুর সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। দুপুরে ছোট ভাইকে স্কুলে দিয়ে হেঁটে বাসায় ফিরছিলেন তাঁর মা। টিকাটুলিতে রাস্তা পার হওয়ার সময় বন্ধন পরিবহন ও দোয়েল পরিবহনের দুটি বাসের পাল্লাপাল্লির মধ্যে পড়েন তিনি। এ সময় দোয়েল পরিবহনের বাসটির ধাক্কায় তিনি সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে বিকেল চারটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ওয়ারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু বক্কর বলেন, রীনা রানীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর দোয়েল পরিবহনের বাসটি জব্দ এবং চালককে আটক করা হয়েছে।

নিহত রীনা রানীর স্বামী বিশ্বজিৎ ঘোষ পেশায় মাছ কাটার শ্রমিক। রীনা বিভিন্ন বাসাবাড়িতে কাজ করতেন। তাঁদের গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ইব্রাহিমপুর গ্রামে। দুই সন্তানের জননী রীনা পরিবারের সঙ্গে রাজধানীর টিকাটুলির কে এম দাস লেনে থাকতেন।