রংপুর জেলার আট উপজেলায় আগাম জাতের আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। পাকা ধান কাটতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা। সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে রংপুর সদর উপজেলার হরিদেবপুর এলাকায় সরেজমিনে এমন চিত্র দেখা গেছে।
কৃষকেরা জানান, কম সময়ে ধান ঘরে তোলা, রোগবালাই কম হওয়া ও ভালো ফললে লাভের মুখ দেখছেন তারা। ধান কাটার পর একই জমিতে রবিশস্য আবাদ করে বাড়তি আয়ের প্রস্তুতিও নিচ্ছেন কৃষকেরা।
জেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, রংপুরে এবার এক লাখ ৬৬ হাজার ৯৬০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ হয়েছে। এর মধ্যে রংপুর সদর উপজেলায় ২০৫ হেক্টর, কাউনিয়া উপজেলায় ২২৫ হেক্টর, মিঠাপুকুর উপজেলায় ২ হেক্টর এবং মেট্রোপলিটন এলাকার ৩ হেক্টর জমিসহ মোট ৪৩৫ হেক্টর জমির আগাম জাতের আমন ধান কাটা হয়েছে।
রংপুর সদর উপজেলার হরিদেবপুর গ্রামের কৃষক রহমত আলী জানান, আগাম ধান কাটতেছি। এই ধান কাটার পরেই জমিটাতে আলু লাগাবো। আলুর পরে ভুট্টা লাগাবো। আমার এখানে দোনপ্রতি ১২ থেকে ১৫ মণ ফলন হয়েছে। ধান ৬২০ টাকা করে মণ বিক্রি করতেছি। মোটামুটি ভালো দাম। এই ধান ঘরে তুলে বউ-বাচ্চাসহ খাবো। এজন্য আনন্দ পাচ্ছি।
আরেক কৃষক সবুজ মিয়া জানান, সারের দাম বেশি। সার কিনতে গেলে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। আবার এক-দুই দিন চলে যায়। সময়মতো সার পাওয়া যায় না। শ্রমিককে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা করে দিতে হয়। ধানের দাম আরেকটু বেশি হলে ভালো হতো।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মাহমুদা খাতুন জানান, রংপুর জেলায় এ বছর এক লাখ ৬৬ হাজার ৯৬০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ৪৩৫ হেক্টর জমির আগাম জাতের আমন ধান কাটা হয়েছে। হেক্টরপ্রতি আগাম জাতের আমন ধানের ফলন হয়েছে ৩ দশমিক ১৫ মেট্রিক টন।
তিনি বলেন, কৃষকেরা আগাম জাতের আমন ধান কাটার পরই রবিশস্য আবাদ করবেন। ধান ও রবিশস্য মিলিয়েই ভালো দাম পাবেন বলে আশাবাদী কৃষকেরা। গত বছরের মতো এবারও ফলন হয়েছে।