কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলায় মানসিক প্রতিবন্ধী এক নারীকে ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগে এক অটোরিকশাচালককে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১১।
গত রোববার (১১ অক্টোবর) রাত আড়াইটার দিকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার যুক্তিখোলা এলাকা থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম মো. ইকরামুল হক (৩৭), যার স্থায়ী ঠিকানা সদর দক্ষিণ উপজেলার লালবাগ উত্তরপাড়ায়।
এসআরবি-১১-এর সিপিসি-২, কুমিল্লার ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. ইমরুল হাসান এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার বিস্তারিত জানা গেছে যে, গত ১০ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে এক অটোরিকশাচালককে মানসিক প্রতিবন্ধী এক নারীকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করতে দেখা যায়। ভিডিওটি কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পরপরই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার এবং ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধারের লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে এসআরবি-১১।
প্রাথমিক অনুসন্ধান ও জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, গত ১০ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সদর দক্ষিণ উপজেলার লালবাগ এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে একটি কলাবাগানে ওই নারীকে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন ইকরামুল। ঘটনার পর তিনি যখন কলাবাগান থেকে বের হয়ে আসছিলেন, তখন রাসেল নামের অন্য এক অটোরিকশাচালক তাকে দেখতে পান এবং পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। ওই ভিডিওতে ইকরামুল নিজের অপরাধ স্বীকার করেন। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি আত্মগোপনে চলে যান। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এসআরবি-১১-এর সিপিসি-২, কুমিল্লার ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. ইমরুল হাসান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “গ্রেপ্তার ইকরামুলকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সদর দক্ষিণ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।”
উল্লেখ্য, সম্প্রতি কুমিল্লার লালমাইয়ের একটি ধানক্ষেত থেকে জান্নাতুল তাজমিন (১৫) নামে এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত ৮ অক্টোবর লালমাই উপজেলার কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কসংলগ্ন পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর (মানুমুড়া) এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়াকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।