রাজধানীর গুলশান আবাসিক এলাকার বর্জ্য অপসারণের কাজ পাওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি এবং সেই কাজ না দিলে প্রতি মাসে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করার অভিযোগে তিন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে খিলক্ষেত থানার আশিয়ান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় পরিচালিত এক অভিযানে তাঁদের আটক করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের পরিচয় দেওয়া হয়েছে— মো. আনোয়ার (৩০), মো. নাজমুল (২৫) ও মো. জিদান মিয়া (১৯)। আজ রবিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

পুলিশের দেওয়া তথ্যানুসারে, গত ৬ অক্টোবর বেলা সাড়ে তিনটার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি অতর্কিতভাবে গুলশান সোসাইটির কার্যালয়ে প্রবেশ করেন এবং সেখানে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জিম্মি করেন। সেই সময় তাঁরা দাবি জানান যে, গুলশান সোসাইটির বর্জ্য অপসারণের কাজ তাঁদের হাতে দিতে হবে। এই দাবি মানা না হলে প্রতি মাসে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে বলে তাঁরা হুমকি দেন। এছাড়া চাঁদা দিতে ব্যর্থ হলে সোসাইটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং কর্মীদের বড় ধরনের ক্ষতি করার পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাঁরা এলাকা ত্যাগ করেন।

তদন্তে পুলিশ আরও জানতে পেরেছে যে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ‘বি এন্টারপ্রাইজ’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের নামে লিফলেট তৈরি করে গুলশান আবাসিক এলাকার বিভিন্ন বাসায় বিতরণ করেছিলেন। তবে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, উক্ত প্রতিষ্ঠানটির কোনো বৈধ নিবন্ধন বা সরকারি অনুমোদন ছিল না। এছাড়া তাঁরা নিজেদের মাহবুব ও রবিন গ্রুপের সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে গুলশান সোসাইটির দ্বারা নিযুক্ত বর্তমান কর্মীদেরও হুমকি প্রদান করছিলেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার পরপরই গুলশান থানা-পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে পুলিশ অভিযুক্তদের শনাক্ত করে এবং তাঁদের গ্রেপ্তার করে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে গতকাল গুলশান থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।