উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর চার বছর বয়সী এক শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে এপিবিএন পুলিশ। রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক পুলিশ সুপার রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১০ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে উখিয়া উপজেলার জামতলী ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি-১৩ ব্লকে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানে অভিযুক্ত দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।
নিহত শিশুটির নাম মোহাম্মদ ওমর (৪)। সে উখিয়ার জামতলী ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি-১ ব্লকের বাসিন্দা আব্দুল হামিদের ছেলে। এই ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন একই ক্যাম্পের ডি-১৩ ব্লকের আলী আহমদের ছেলে আব্দুর রহমান (৩৪) এবং তার স্ত্রী আনসি বেগম (৩০)।
ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে পুলিশ সুপার রিয়াজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “গত ৮ অক্টোবর দুপুরে ক্যাম্পের নিজ বসত ঘরের পাশে প্রতিবেশী অন্য শিশুর সঙ্গে মোহাম্মদ ওমর খেলাধুলা করছিল। এক পর্যায়ে সে নিখোঁজ হয়। পরে শিশুটির পরিবার ব্লক ও হেড মাঝিসহ পুলিশকে ঘটনাটি অবহিত করে। আর ঘটনাটি অবহিত হওয়ার পর থেকে পুলিশ নিখোঁজ শিশুটির সন্ধানে অভিযান শুরু করে।”
পুলিশ জানায়, নিখোঁজ শিশুটির সন্ধানে তল্লাশি চালানোর এক পর্যায়ে গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে শিশুটির বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং মুক্তিপণ হিসেবে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। মুক্তিপণ দাবির এই সূত্র ধরে পুলিশ তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে অপরাধীর অবস্থান শনাক্ত করে। এরপর শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে জামতলী ১৫ নম্বর ক্যাম্পের ডি-১৩ ব্লকে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এপিবিএন পুলিশের ওই কর্মকর্তা আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আব্দুর রহমানের বসত ঘরের পাশে থাকা একটি পানির ট্যাংকের ঘেরার ভেতর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির মৃতদেহ উদ্ধার করে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে এবং পরিচয় গোপন করার উদ্দেশ্যে মৃতদেহটি পোড়ানো হয়েছে। এর ফলে শিশুটির শরীর বিকৃত হয়ে গেছে এবং পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুর রহমান মজুমদার জানান, অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি, হত্যা এবং মরদেহ গুম করার অভিযোগে ওই দম্পতির বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার পর শিশুটির মরদেহ তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।