রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার কাফ্রিখাল ইউনিয়নে গভীর রাতে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক স্থানীয় নেতার বিরুদ্ধে। এর আগে গত বছরের ২৮ আগস্ট একই পুকুরে বিষ দিয়ে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার মাছ মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছিল ওই নেতার বিরুদ্ধে।

রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে মিঠাপুকুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাফিজুর রহমান এ ঘটনায় পুকুর পরিদর্শনের কথা জানান। তিনি বলেন, “এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ভুক্তভোগী বদরুদ্দোজা মাহমুদ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট। তিনি ওই গ্রামের সুলতান মাহমুদের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত মাহবুল আলম দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ‘ডামি প্রার্থী’ হিসেবে ‘ডাব’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন।

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (১০ অক্টোবর) রাত ১টা থেকে রোববার ভোর ৬টার মধ্যবর্তী সময়ে উপজেলার কাফ্রিখাল ইউনিয়নের বুজরুক মহদিপুর গ্রামের বদরুদ্দোজা মাহমুদের পুকুরে বিষ প্রয়োগ করা হয়।

রোববার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, পুকুরে ভাসতে থাকা মরা মাছগুলো ছোট নৌকায় উঠে জাল দিয়ে তুলছিলেন স্থানীয় জেলে রবিউল। এ সময় কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দাকেও পুকুরে নেমে মরা মাছ সংগ্রহ করতে দেখা যায়।

বদরুদ্দোজা মাহমুদ অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মাহবুল আলম বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মামলা দিয়ে হয়রানি করতেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মাহবুলের বাগানবাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। বদরুদ্দোজার ভাষ্য, সে সময় তিনি মাহবুলকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে পাঠিয়েছিলেন। এরপর ওই হামলার জন্য তাকে দায়ী করে মাহবুল তার সঙ্গে বিরোধে জড়ান।

বদরুদ্দোজার দাবি, গত বছর মাহবুলের লোকজন তার পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকার মাছ মেরে ফেলেছিল। এ ছাড়া গত ২৬ জুন তার লাগানো গাছ কেটে ফেলার জন্য প্রতিবেশী নাফিউল ইসলামকে ২০ হাজার টাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। নাফিউল বিষয়টি তাকে জানালে সে সময় গাছ কাটার পরিকল্পনা ব্যর্থ হয় বলে তার দাবি। এ সংক্রান্ত কল রেকর্ড নিজের কাছে রয়েছে বলেও জানান বদরুদ্দোজা।

নাফিউল ইসলামও অভিযোগ করেন, প্রায় তিন মাস আগে মাহবুল তাকে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে বদরুদ্দোজার লাগানো গাছ কেটে ফেলতে বলেছিলেন এবং অগ্রিম এক হাজার টাকা দিয়েছিলেন। নাফিউলের দাবি, তিনি বদরুদ্দোজাকে বিষয়টি জানিয়ে দেন। তার ধারণা, গাছ কাটতে না পেরে এবার পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ মেরে ফেলা হয়েছে। এ বিষয়ে আদালতে সাক্ষ্য দিতেও তিনি প্রস্তুত বলে জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা বানেছা বেগম জানান, সকালে পুকুরে গিয়ে তারা মাছগুলোকে ছটফট করতে দেখেন। তার অভিযোগ, এর আগেও ওই পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ মেরে ফেলা হয়েছিল।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাহবুল আলমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হয় এবং খুদে বার্তা পাঠানো হয়। তবে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

মিঠাপুকুর থানার এসআই হাফিজুর রহমান জানান, পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধনের খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হবে। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।