ভারতের বেসরকারি বিমান সংস্থা ইন্ডিগোর একটি উড়োজাহাজে লাগেজ রাখার জায়গায় হঠাৎ আগুন ধরে যাওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। এই চরম সংকটময় পরিস্থিতিতে দ্রুত উড়োজাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করে হায়দরাবাদে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করানো হয়। আজ রোববার দিল্লি থেকে চেন্নাইগামী ইন্ডিগোর একটি ফ্লাইটে এই রোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটেছে।

প্রাথমিক তদন্ত ও ধারণা অনুযায়ী, যাত্রীদের ব্যবহৃত ত্রুটিপূর্ণ একটি পাওয়ার ব্যাংকের কারণেই এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ঘটনার সময় এক যাত্রীর মুঠোফোনে ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সামনে এসেছে। ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, আগুনের লেলিহান শিখা দেখে আতঙ্কিত যাত্রীরা নিজেদের ব্যাগ দিয়ে চেপে ধরে আগুন নেভানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছেন।

জানা গেছে, এয়ারবাসের একটি মডেলের ইন্ডিগো ফ্লাইট ৬ই৬১১৫ দিল্লি থেকে চেন্নাইয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল। স্থানীয় সময় বেলা ১টা ৩০ মিনিটে ফ্লাইটটি ছাড়ার কথা ছিল এবং পথ পরিবর্তনের আগে বিকেল ৪টার মধ্যে চেন্নাইয়ে পৌঁছানোর কথা ছিল।

বিপজ্জনক এই পরিস্থিতিতে কেবিন ক্রুরা অত্যন্ত তৎপরতার সাথে অগ্নিনির্বাপণযন্ত্র ব্যবহার করে আগুন নিভিয়ে ফেলেন। উড়োজাহাজের সব যাত্রী এবং ক্রু সদস্যরা সম্পূর্ণ নিরাপদে আছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

পুরো ঘটনা প্রসঙ্গে ইন্ডিগো এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “১১ অক্টোবর দিল্লি থেকে চেন্নাইগামী ইন্ডিগো ফ্লাইট ৬ই৬১১৫-তে একজন যাত্রীর ব্যক্তিগত ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে ধোঁয়া শনাক্ত হওয়ার পর উড়োজাহাজকে হায়দরাবাদে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। কেবিন ক্রুরা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।”

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী পাইলটরা উড়োজাহাজের পথ পরিবর্তন করেন এবং হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করান। পরবর্তীতে যাত্রীদের গন্তব্য চেন্নাইয়ে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিকল্প আরেকটি উড়োজাহাজের ব্যবস্থা করা হয়।

যাত্রীদের সাময়িক ভোগান্তির বিষয়ে ইন্ডিগো তাদের বিবৃতিতে বলে, ‘এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে আমাদের যাত্রীদের যে অসুবিধা হয়েছে, সে জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। ইন্ডিগোতে আমাদের যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’