পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি অভ্যন্তরীণ নির্দেশনা জনসমক্ষে ফাঁস হওয়ার ঘটনায় তদন্ত করতে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে খুলনা জেলা পুলিশ। এই গোপন নির্দেশনাটি কীভাবে প্রকাশ্যে এল, তা খতিয়ে দেখছে কর্তৃপক্ষ। তদন্তে যদি কারও দায়িত্বহীনতা কিংবা বিধিবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় খুলনা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই পদক্ষেপের কথা জানানো হয়।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ৮ অক্টোবর দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে। সেই সময়ে ছিনতাইকারীদের চাপাতির আঘাতে পুলিশ পরিদর্শক মো. শাহ আলম গুরুতর আহত হন। তার দুই হাত মারাত্মকভাবে জখম হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতেই পুলিশ সদস্যদের সতর্ক থাকার জন্য ওই অভ্যন্তরীণ নির্দেশনা জারি করা হয়েছিল।

জেলা পুলিশের দেওয়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. শাহ আলম তার দায়িত্ব পালন শেষে গভীর রাতে সাদা পোশাকে রূপসা ফেরি পার হয়ে রিকশায় করে খুলনা মহানগরীর পুলিশ ক্লাবে যাচ্ছিলেন। পথে কলেজিয়েট স্কুলের কাছাকাছি পৌঁছালে তিন ছিনতাইকারী তাকে আক্রমণ করে এবং তার মানিব্যাগ ও দুটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এই ছিনতাইয়ের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে ছিনতাইকারীদের একজন চাপাতি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কোপায়। আত্মরক্ষার জন্য হাত দিয়ে আঘাত ঠেকাতে গিয়ে তার দুই হাত গুরুতরভাবে জখম হয়।

আহত শাহ আলমকে দ্রুত পুলিশ হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাকে এক ব্যাগ রক্ত দিতে হয়। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তার দুই হাতে অস্ত্রোপচার করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলেও কয়েকটি আঙুলের কর্মক্ষমতা স্থায়ীভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত শুক্রবার সকালে পুলিশ সুপারের স্বাক্ষরে একটি আন্তবিভাগীয় নির্দেশনামূলক অফিস আদেশ জারি করা হয়। উক্ত আদেশে বিশেষ করে গভীর রাতে সাদা পোশাকে চলাচলের সময় পুলিশ সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্ক ও সচেতন থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছিল।

খুলনা জেলা পুলিশের দাবি, এই নির্দেশনাটি শুধুমাত্র সদস্যদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে জারি করা হয়েছিল। জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক বার্তা দেওয়া কিংবা পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রম সীমিত করা এই নির্দেশনার উদ্দেশ্য ছিল না।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, জেলার বিভিন্ন থানায় অপরাধ দমনে অভিযান, চেকপোস্ট স্থাপন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। নির্দেশনাটি প্রকাশ্যে আসার পর যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে কোনো অপতথ্য না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে তদন্ত প্রক্রিয়ায় যদি দায়িত্বহীনতা বা বিধিবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের প্রমাণ মেলে, তবে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।