খুলনার দাকোপ উপজেলায় ঢাকী নদীর তীব্র ভাঙনের ফলে ওয়াপদার নির্মিত বেড়িবাঁধের একটি বড় অংশ নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। বাঁধের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে ধস ও ফাটল দেখা দেওয়ায় আশপাশের বসতবাড়ি, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এবং বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি এখন চরম হুমকির মুখে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে তারা এই নদীভাঙনের সাথে জীবনপণ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। বারবার সংস্কার কাজ করা হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান না আসায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন ওই এলাকার মানুষ।
গত রোববার (১১ অক্টোবর) ভোর ৬টার দিকে উপজেলার বটবুনিয়া এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। শুধু বটবুনিয়া নয়, পানখালী ইউনিয়নের খোনা এলাকাতেও ঢাকী নদীর ভাঙনের কবলে পড়েছে বেড়িবাঁধ। সেখানে মোল্লাবাড়ির সামনে বাঁধের একটি বড় অংশ ধসে যাওয়ায় এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে এবং অনেক বসতবাড়ি এখন ঝুঁকির মুখে।
এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা আসাদ জানান, প্রায় ৩০ বছর ধরে তারা এই নদীভাঙনের ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করছেন। প্রতি বছরই একাধিকবার বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ে। এই দীর্ঘ সময়ে ভাঙনের ফলে তাদেরসহ অনেকের ঘরবাড়ি এবং প্রায় ৩০০ বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
পানখালী ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রাশেদুল ইসলাম বাবু মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “গত ২ অক্টোবর খোনা মোল্লাবাড়ির সামনে বেড়িবাঁধে ফাটল দেখা দেয়। এরই মধ্যে সড়কের অর্ধেক অংশ নদীতে চলে গেছে। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে (পাউবো) বারবার জানানো হলেও স্থায়ীভাবে ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।”
জানা গেছে, দাকোপের ৩১ নম্বর পোল্ডারের আওতাধীন খোনা এলাকায় প্রায় ১০০ মিটার সড়কের বড় একটি অংশ ধসে পড়েছে। এছাড়া জাবেরের খেয়াঘাট, কামিনীবাসিয়া, গড়খালী, আন্ধারমানিক, সুতারখালীর গুণারীর কালীবাড়ি লঞ্চঘাট, কালাবগী বাজার, বানীশান্তা ও তেলিরকোনা বাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বেড়িবাঁধের ফাটল ও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অমাবস্যা ও পূর্ণিমার জোয়ারের সময় বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। গত বছর বটবুনিয়ায় বাঁধ ভেঙে রোপা আমন ধান এবং পুকুরের মাছ ভেসে গিয়েছিল। তাদের দাবি, অপরিকল্পিত ও নিম্নমানের সংস্কারকাজের কারণেই বারবার এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। এই বিষয়ে পাউবোর কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তারা।
দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বোরহান উদ্দিন মিঠু মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “পাউবোর সঙ্গে সমন্বয় করে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে, খুলনা পাউবোর বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশিদুর রহমান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে। শিগগিরই সেখানে কাজ শুরু করা হবে।”
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের জোরালো দাবি, কেবল সাময়িক বা জরুরি সংস্কার দিয়ে এই সমস্যার সমাধান হবে না। নদীভাঙন স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে টেকসই ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় বসতবাড়ি, ফসলি জমি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।