জামালপুর শহরের কাছারিপাড়া এলাকায় একটি বাড়ির সামনে পড়ে থাকা রহস্যময় সাদা বস্তাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়। সকাল থেকেই মুখবাঁধা বস্তাটি সেখানে পড়ে ছিল এবং সময়ের সাথে সাথে তা থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করে। বস্তার ভেতরে ঠিক কী রয়েছে, তা নিয়ে এলাকায় চরম রহস্য তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত পুলিশের উপস্থিতিতে বস্তাটি খোলার পর এর আসল রহস্য উদঘাটন হয়।

রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুর ২টা ১০ মিনিটের দিকে শহরের ফকিরপাড়া মোড় এলাকা থেকে বস্তাটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ও সংশ্লিষ্টরা বস্তাটি খোলার পর ভেতরে একটি মৃত ও পচা কুকুর দেখতে পান।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, সকাল থেকেই ভাড়াটিয়া সাত্তার মিয়ার বাসার সামনে অবস্থিত কারু নিলয় হ্যান্ডিক্র্যাফট স্ক্রিন প্রিন্টারের সামনে বস্তাটি পড়ে থাকতে দেখা যায়। বস্তাটি থেকে নির্গত অসহ্য দুর্গন্ধের কারণে আশপাশের বাসিন্দারা চরম ভোগান্তির সম্মুখীন হন। বিষয়টি অবগত হয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় জামালপুর সদর থানা-পুলিশ।

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা পাওয়ার খান জানান, ‘সকাল থেকে ঘরে থাকতে পারছি না। কে বা কারা বস্তাটি ফেলে গেছে, তা বলতে পারছি না। এত দুর্গন্ধ যে বাসার ভেতরেও থাকা যাচ্ছিল না।’

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা রিপন বলেন, ‘বস্তার ভেতরে কুকুর পাওয়া গেছে। শহরের ভেতরে এভাবে কে বা কারা বস্তায় ভরে কুকুর ফেলে যায়, তা বোধগম্য নয়। বস্তাটি থেকে এত দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল যে ঘরে থাকাও কঠিন হয়ে পড়েছিল। এ ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নজর দেওয়া উচিত।’

সোহাগ নামে ওই এলাকার আরও একজন বাসিন্দা জানান, ‘সকাল থেকে বস্তাটি পড়ে থাকতে দেখে দুর্গন্ধ ছড়ানোয় আমরা চিন্তিত ছিলাম। বস্তার ভেতরে কী আছে, তা নিয়ে উদ্বেগ ছিল। পরে পুলিশ ও পৌরসভার লোকজন এসে সেটি নিয়ে গেছেন।’

জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব এই ঘটনার বিষয়ে বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পরে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা পুলিশের উপস্থিতিতে বস্তাটি উদ্ধার করে নিয়ে যান। বস্তাটির ভেতরে একটি কুকুর পাওয়া গেছে। কে বা কারা বস্তাটি সেখানে ফেলে গেছে, তা জানা যায়নি।’