দেখতে অত্যন্ত নিরীহ এবং সাধারণ একটি ফল হলেও বর্তমানে মাল্টার জীবন মোটেও সরল নয়। আমদানির পর থেকে বাজারে পৌঁছানো পর্যন্ত এই ফলের দামের যে উল্লম্ফন ঘটে, তা রীতিমতো বিস্ময়কর। মাত্র ৮৭ টাকা আমদানি মূল্য হওয়া সত্ত্বেও শুল্ক, কর, বন্দর খরচ, পরিবহন এবং পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের মুনাফার পর বাজারে এর দাম দাঁড়িয়েছে ৪৮০ থেকে ৫২০ টাকা। বর্তমানে মাল্টার ওপর আরোপিত শুল্ক ও করের হার ১২১.৭৮ শতাংশ, যা টেসলা বা মার্সিডিজের মতো দামি গাড়ির চেয়েও বেশি। ফল হিসেবে জন্ম নিলেও এখন এটি কার্যত একটি শুল্কযুক্ত বিলাসপণ্যে পরিণত হয়েছে। এই অদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে মাল্টার সাথে কথা বলেছেন মাহমুদুল হাসান।

মাহমুদুল হাসান: কেমন আছেন? ফলজন্ম নিশ্চয়ই সার্থক বলে মনে হচ্ছে?

মাল্টা: খুব ভালো আছি। তবে আমাকে শুধু ফল ভাবলে ভুল করবেন, আমি এখন কাগজপত্রসহ একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক প্যাকেজ!

মাহমুদুল হাসান: তা তো বটেই! আপনার বর্তমান শুল্ক-করহার ১২১ দশমিক ৭৮ শতাংশ। এত বেশি কেন?

মাল্টা: জানি না। তবে একটা কথা বুঝেছি—আমার শরীরে যত ভিটামিন সি, তার চেয়ে শুল্কের শতাংশই বেশি!

মাহমুদুল হাসান: শুনেছি টেসলা আমদানিতে শুল্ক-কর ৮৯–৯২ শতাংশ, মার্সিডিজে ৯৬ দশমিক ১০ শতাংশ। আপনি তো তাদেরও পেছনে ফেলেছেন!

মাল্টা: হ্যাঁ। টেসলা গাড়ি আমাকে দেখে মনে মনে হয়তো বলে, ‘পরের জন্মে মাল্টা হব!’

মাহমুদুল হাসান: আপনি কি নিজেকে এখন বিলাসপণ্য মনে করেন?

মাল্টা: অবশ্যই। আগে আমাকে ফলের দোকানে ঝুড়িতে রাখা হতো। এখন দাম শুনে ক্রেতা আমাকে এমনভাবে ধরে, যেন ভুল করে আদার ব্যাপারী হয়ে জাহাজ কিনতে এসেছে!

মাহমুদুল হাসান: আপনার শুল্কের ইতিহাসও বেশ চমকপ্রদ। ২০০৬–০৭ অর্থবছরে ছিল ৫৯ দশমিক ২৫ শতাংশ। পরে বেড়ে ৮৯, ১০৬, এখন ১২১ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

মাল্টা: আমারও ক্যারিয়ার আছে ভাই। সবার বেতন বাড়ে, আমার শুল্ক বাড়ে!

মাহমুদুল হাসান: কিন্তু আমদানিকারক তো আপনাকে ৮৭ টাকায় কিনছেন। তারপর এত খরচ?

মাল্টা: এটাই তো আমার দুঃখ। আমি সীমান্ত পার হওয়ার সময় ছিলাম ৮৭ টাকার মাল্টা। বাজারে ঢোকার সময় দেখি, আমার সঙ্গে আরও কয়েকজন ঢুকে গেছে—শুল্ক, কর, বন্দর, পরিবহন, পাইকার, খুচরা!

মাহমুদুল হাসান: তারা কি আপনার আত্মীয়?

মাল্টা: আত্মীয় না হলেও আমার দামের অংশীদার! তাদের নিয়ে বাজে কথা বলবেন না।

মাহমুদুল হাসান: সবশেষে আপনার দাম দাঁড়ায় ৪৮০–৫২০ টাকা। ক্রেতারা কী বলে?

মাল্টা: কেউ বলে, ‘বাবা রে!’ কেউ বলে, ‘মাল্টা ফল টক! অনেকেই আবার আমাকে হাতে নিয়ে দাম শুনে ঝুড়িতে রেখে দেয়—ভিটামিন সি তখন চোখ দিয়ে বের হয়!

মাহমুদুল হাসান: শেষ প্রশ্ন। এভাবে দাম বাড়তেই থাকলে আপনার ভবিষ্যৎ কী?

মাল্টা: ভবিষ্যৎ খুব উজ্জ্বল।

মাহমুদুল হাসান: কীভাবে?

মাল্টা: একদিন ফলের দোকান থেকে আমাকে সরিয়ে জুয়েলারির শোকেসে রাখা হবে। শুধু বড়লোকেরাই আমাকে কিনতে আসবে। তারা আমাকে দেখেই বলবে, ‘মাল্টাকে গাড়িতে তোল!’

মাহমুদুল হাসান: তত দিনে তো আপনার দাম আরও বাড়বে, তাই না?

মাল্টা: অবশ্যই। তখন আর কেজি দরে দাম বলা যাবে না। ভরি দরে বলতে হবে— ‘ভাই, আজকের মাল্টার রেট কত?’