সুন্দরবনের ভেতরে সক্রিয় কুখ্যাত বনদস্যু দল ‘আলিফ বাহিনী’র ১৫ সদস্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। শুক্রবার রাতে সুন্দরবনের এসআরবি-৬-এর কাছে তারা নিজেদের সারেন্ডার করেন। জানা গেছে, আত্মসমর্পণকারী এই সদস্যদের মধ্যে আবদুল্লাহ গ্রুপের আটজন এবং মজিদ গ্রুপের সাতজন সদস্য রয়েছেন।
তবে আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়ার সময় তারা কতসংখ্যক আগ্নেয়াস্ত্র এবং কত পরিমাণ গোলাবারুদ জমা দিয়েছেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য প্রদান করেনি এসআরবি-৬।
শনিবার (১০ অক্টোবর) এসআরবি-৬-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। এ বনের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করেন হাজার হাজার জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়াল। তবে দীর্ঘদিন ধরে বনদস্যুদের অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়সহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বনজীবী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের ফলে অতীতে সুন্দরবনের বিভিন্ন বনদস্যু বাহিনীর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সদস্য আত্মসমর্পণ করেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাদের মধ্যে কেউ কেউ পুনরায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। তারা মূলত জেলে ও বনজীবীদের অপহরণ করা, মুক্তিপণ দাবি করা এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন।
এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এসআরবি-৬ তাদের গোয়েন্দা নজরদারি এবং ধারাবাহিক অভিযান আরও জোরদার করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর তৎপরতা, বনের প্রতিকূল পরিবেশ এবং অপরাধজীবনের অনিশ্চয়তার কারণে শেষ পর্যন্ত দস্যুদের মধ্যে অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আগ্রহ তৈরি হয়।
আর এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাতে সুন্দরবনে সক্রিয় আলিফ বাহিনীর দুটি গ্রুপের মোট ১৫ সদস্য আত্মসমর্পণ করেন।
এসআরবি-৬-এর অধিনায়ক আরও জানান, আত্মসমর্পণকারী এই বনদস্যুদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।