আন্তর্জাতিক বিরতির আগে যে ছন্দ নিয়ে শেষ করেছিল, ঠিক সেই দাপট নিয়েই মাঠে ফিরল বার্সেলোনা। গেতাফের বিপক্ষে ম্যাচের শুরুতেই আধিপত্য বিস্তার করে সহজ জয় তুলে নিয়েছে হান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা। অ্যান্থনি গর্ডন, গ্যাব্রিয়েল জেসুস এবং জুলস কুন্দের দুর্দান্ত গোলে লা লিগায় টানা অষ্টম জয় নিশ্চিত করল কাতালানরা। এই জয়ের মাধ্যমে ক্লাবের ইতিহাসে মৌসুমের শুরুতে টানা জয়ের এক পুরনো রেকর্ড স্পর্শ করল তারা।

শনিবার (১০ অক্টোবর) নিজেদের মাঠ ক্যাম্প ন্যুতে গেতাফেকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে বার্সেলোনা। ম্যাচের ২, ৩০ এবং ৭৩ মিনিটে গোল তিনটি করেন যথাক্রমে গর্ডন, জেসুস ও কুন্দে। আট ম্যাচে আট জয়ের এই ধারাবাহিকতায় ২৪ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগার শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বার্সেলোনা।

খেলার শুরুতেই আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে স্বাগতিক দল। ম্যাচের মাত্র ৮৩ সেকেন্ডের মাথায় লিড নেয় বার্সেলোনা। এরিক গার্সিয়ার নিখুঁত পাস পেয়ে বক্সের সামনে দুই ডিফেন্ডারকে পরাস্ত করে শট নেন গর্ডন। বলটি গেতাফের মারিও মার্তিনের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায়। বার্সেলোনার জার্সিতে এটিই ছিল ইংলিশ ফরোয়ার্ড গর্ডনের প্রথম গোল।

দ্রুত গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়লেও গেতাফে তাদের রক্ষণাত্মক অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসতে ব্যর্থ হয়। পুরো ম্যাচে বলের দখল ধরে রেখে একের পর এক আক্রমণ চালায় বার্সেলোনা। গর্ডনের তৈরি করা সুযোগ থেকে গাভির শট প্রতিহত হয়। এছাড়া এরিক গার্সিয়ার একটি দূরপাল্লার প্রচেষ্টা দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন গেতাফে গোলরক্ষক দাভিদ সোরিয়া।

ম্যাচের ৩০ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন গ্যাব্রিয়েল জেসুস। গেতাফের ডিফেন্ডার জাইদ রোমেরোকে চাপে ফেলে বল কেড়ে নেন ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ড। এরপর বক্সে ঢুকে দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে এক নিখুঁত কোনাকুনি শটে বল জালে পাঠান তিনি।

চোটের কারণে রাফিনিয়া খেলতে না পারায় বার্সেলোনার শুরুর একাদশে প্রথমবারের মতো সুযোগ পেয়েছিলেন জেসুস। সেই সুযোগকে তিনি যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে গোলটি করেন। নতুন ক্লাবে এখন পর্যন্ত তার লক্ষ্যভেদের তিনটি প্রচেষ্টাই গোলের দেখা পেয়েছে।

প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে আরও কিছু গোলের সুযোগ তৈরি করে বার্সেলোনা। তবে কুন্দের পরপর দুটি প্রচেষ্টা রুখে দেন সোরিয়া। ফলে দুই গোলের বড় ব্যবধান নিয়েই বিরতিতে যায় স্বাগতিক দল।

দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল পুরোপুরি বার্সেলোনার হাতে। ৪৯ মিনিটে জেরার্দ মার্তিনের ক্রস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলের খুব কাছাকাছি গিয়েছিলেন জেসুস। এরপর ৫৭ মিনিটে দানি ওলমোর একটি শট ঠেকিয়ে দেন গেতাফে গোলরক্ষক।

৬১ মিনিটে কৌশলগত পরিবর্তন আনেন কোচ হান্সি ফ্লিক। ওলমো ও গাভিকে তুলে নিয়ে মাঠে নামান পেদ্রি ও ফেরমিন লোপেজকে। এই পরিবর্তনের পর বলের দখলে স্বাগতিকদের আধিপত্য আরও বৃদ্ধি পায়। দ্বিতীয়ার্ধের প্রায় ৮৫ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল বার্সেলোনা।

ম্যাচের ৭৩ মিনিটে তৃতীয় গোলটি করেন জুলস কুন্দে। ডান দিক থেকে লামিনে ইয়ামালের এক দুর্দান্ত ক্রসে গোলমুখে ফাঁকা জায়গায় বল পেয়ে তা জালে পাঠান এই ফরাসি ডিফেন্ডার।

গোল করার পাশাপাশি দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখলেন কুন্দে। গেতাফের বিপক্ষে বার্সেলোনার হয়ে নিজের ১৯৪তম ম্যাচ খেলে তিনি এরিক আবিদালকে ছাড়িয়ে ক্লাবের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ফরাসি ফুটবলার হওয়ার রেকর্ড গড়েন।

ম্যাচের শেষ দিকে গোলের সুযোগ পান ইয়ামালও। ৮৬ মিনিটে করিম আদেয়েমির ক্রস থেকে তার নেওয়া শটটি অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। শেষ পর্যন্ত তিন গোলের বড় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা।

এই জয়ের ফলে ২০১৩-১৪ মৌসুমে গেরার্দো মার্তিনোর অধীনে গড়া লা লিগায় সেরা শুরুর রেকর্ড স্পর্শ করল বার্সেলোনা। সেবারও প্রথম আটটি ম্যাচের সবকটিতেই জয় পেয়েছিল কাতালানরা। এবারও সেই কীর্তির পুনরাবৃত্তি করল ফ্লিকের দল।

চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে বার্সেলোনার জয় এখন টানা নয় ম্যাচে। তবে সামনে তাদের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। আগামী ১৩ অক্টোবর চ্যাম্পিয়নস লিগে গালাতাসারাইয়ের মাঠে খেলতে হবে তাদের। এরপর রিয়াল বেতিস ও পিএসজির বিপক্ষে দুটি অ্যাওয়ে ম্যাচ রয়েছে। আর ২৫ অক্টোবর ক্যাম্প ন্যুতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের মুখোমুখি হবে ফ্লিকের দল।