কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে গড়াই নদের ওপর ‘শহীদ আবরার ফাহাদ সেতু’ নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। নিহত শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহর আবেদনের প্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার বিভাগকে এই বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগের কথা জানতে পেরে আবেগপ্লুত হয়ে বাবা বরকত উল্লাহ বলেন, ‘খুশি তো অবশ্যই।’

আবরার ফাহাদ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর দিবাগত রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ) একদল নেতা-কর্মীর হাতে নির্মমভাবে পিটিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়। আবরার কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা গ্রামের সন্তান ছিলেন।

আজ শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের কাছে সেতু নির্মাণ সংক্রান্ত চিঠিটি প্রেরণ করা হয়। উক্ত চিঠিতে কুমারখালীর ১ নম্বর কয়া ইউনিয়নের ঘোড়াইঘাট–বড় বাজার সংযোগ সড়কে গড়াই নদের ওপর সেতুটি নির্মাণের লক্ষ্যে পরবর্তী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে এই প্রক্রিয়ায় গৃহীত কার্যক্রমের অগ্রগতি যেন নিয়মিতভাবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়, সেই অনুরোধও জানানো হয়েছে।

এই উদ্যোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বরকত উল্লাহ আজ শনিবার সন্ধ্যার পর মুক্তকণ্ঠকে বলেন, সেতুর নাম ‘শহীদ আবরার ফাহাদ সেতু’ করা এলাকার জনগণের প্রধান দাবি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার সময় তিনি সেতুটির নাম শহীদ আবরার ফাহাদ সেতু করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। এ বিষয়ে লিখিত আবেদনও জানিয়েছিলেন। এখন ছেলের নামে সেতুর নামকরণ করায় তিনি খুশি।

প্রধানমন্ত্রী বরাবর পেশ করা আবেদনে বরকত উল্লাহ স্থানীয় বাসিন্দাদের নদী পারাপারের চরম দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেছিলেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন যে, কয়া, শিলাইদহ, চাপড়া, নন্দলালপুর ও হরিপুর ইউনিয়নের অংশবিশেষে প্রায় দুই লাখ মানুষের বসবাস। জীবিকা নির্বাহ, শিক্ষা এবং চিকিৎসাসহ বিভিন্ন জরুরি প্রয়োজনে প্রতিদিন প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার মানুষ নৌকায় করে নদী পার হয়ে কুষ্টিয়া শহরে যাতায়াত করেন। বিশেষ করে শিশু, নারী, বয়স্ক ও অসুস্থ রোগী এবং প্রসূতিদের জন্য এই নৌ-পারাপার অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও সময়সাপেক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, গড়াই নদের ওপর এই সেতু নির্মিত হলে স্থানীয় মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ বহুগুণ বাড়বে। এছাড়া বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়ি থেকে লালন শাহের আখড়ায় যোগাযোগ করা আরও সহজ হবে।

সেতু নির্মাণের দাবি নিয়ে এর আগেও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে আবেদন ও চিঠিপত্র আদান-প্রদান করা হয়েছে। বরকত উল্লাহর আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে ২০২৫ সালের ৬ মার্চ প্রথম আবেদন করা হয়। ওই বছরের ৩০ এপ্রিল স্থানীয় সরকার বিভাগ বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলীকে চিঠি দেয়। কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলীর পাঠানো চিঠিতে গড়াই নদের ওপর প্রস্তাবিত এই সেতুর দৈর্ঘ্য ৮০০ মিটার উল্লেখ করা হয়েছে।

বরকত উল্লাহ তাঁর আবেদনে আরও জানান, সেতু নির্মাণের সম্ভাব্য স্থানটি প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ইতিপূর্বে পরিদর্শন করেছেন। ২০২৫ সালের অক্টোবরে পরিবেশবিষয়ক জরিপের জন্য একটি দল এবং পরবর্তীতে বুয়েটের প্রকৌশলীসহ আরেকটি দল এলাকাটি পরিদর্শন করেন। এসব প্রাথমিক পদক্ষেপের ফলে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে সেতু নির্মাণের প্রবল আশা তৈরি হয়েছে।