চা-বিরতির পরপরই দ্রুত দুই উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। এবাদত হোসেন ও মেহেদী হাসান মিরাজের জোড়া আঘাতে ১৩৯ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছিল আফগানিস্তান। তবে সেই সুযোগকে কাজে দিতে দেননি আফগান অধিনায়ক রহমত শাহ। ইকরাম আলীখিলকে সঙ্গে নিয়ে দিনের বাকি সময়টুকু সতর্কতার সাথে কাটিয়ে দিয়েছেন তিনি। ফলে আবুধাবি টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে রান হিসেবে এগিয়ে থাকলেও পুরোপুরি স্বস্তিতে নেই বাংলাদেশ।
শনিবার (১০ অক্টোবর) শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে প্রথম ইনিংসে ৭৯ ওভারে ৪ উইকেটে ২১১ রান তুলেছে আফগানিস্তান। স্বাগতিক বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের ৩৪৬ রানের বিপরীতে এখনো ১৩৫ রানে পিছিয়ে রয়েছে তারা। দিনের শেষে রহমত শাহ ১৮৬ বলে ৮৪ রান এবং ইকরাম আলীখিল ৯১ বলে ২৬ রান করে অপরাজিত রয়েছেন।
দিনের শুরু ছিল বাংলাদেশের ব্যাটিং দিয়ে। আগের দিন ৮ উইকেটে ৩১৭ রান নিয়ে মাঠে নামে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। শেষ দুই উইকেটে আরও ২৯ রান যোগ করে ৩৪৬ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। দলের হয়ে শেষ পর্যন্ত ৬৭ বলে ৩৫ রান করে অপরাজিত থাকেন নাঈম হাসান।
জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই সতর্ক ব্যাটিং করে আফগানিস্তান। দশম ওভার পর্যন্ত দুই ওপেনারকে আউট করতে ব্যর্থ হয় বাংলাদেশের বোলাররা। অবশেষে একাদশ ওভারে সেদিকুল্লাহ আতালকে আউট করে প্রথম সাফল্য পান হাসান মাহমুদ। ৩১ বলে ১৭ রান করা আতাল তানজিদ হাসান তামিমের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন।
এরপর আবদুল মালিকের সঙ্গে জুটি গড়েন শহীদুল্লাহ কামাল। তবে দলীয় সংগ্রহ ৬৪ রানে পৌঁছালে শহীদুল্লাহকে ফিরিয়ে দেন এবাদত। তিনি ৪৪ বলে ২০ রান করে হাসান মাহমুদের হাতে ক্যাচ দেন।
দুই উইকেট পতনের পর মালিকের সঙ্গে ব্যাটিংয়ে আসেন রহমত। অত্যন্ত ধৈর্য ধরে ব্যাটিং করে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মালিক। দ্বিতীয় সেশনের বাকি সময়ে বাংলাদেশের বোলারদের আর কোনো সুযোগ দেননি এই জুটি। চা-বিরতির সময় আফগানিস্তানের সংগ্রহ ছিল ২ উইকেটে ১৩১ রান।
চা-বিরতির পরপরই জোড়া আঘাত হানার মাধ্যমে আবারও ম্যাচে ফেরার সুযোগ পায় বাংলাদেশ। প্রথম ওভারেই মালিককে আউট করেন এবাদত। উইকেটের পেছনে লিটন দাসের চমৎকার ক্যাচে ১২০ বলে ৬২ রানের ইনিংস শেষ হয় মালিকের। ঠিক তার পরের ওভারেই মিরাজের বলে স্টাম্পিংয়ের শিকার হন হাশমতউল্লাহ শহীদি। রানের খাতা খোলার আগেই তাকে মাঠ ছাড়তে হয়।
১৩৯ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চরম বিপদে পড়া আফগানিস্তানকে এরপর টেনে তোলেন রহমত ও ইকরাম। বাংলাদেশের স্পিনারদের বিপক্ষে অত্যন্ত সতর্ক ব্যাটিং করে জুটি গড়েন তারা। এই লড়াইয়ে ১১২ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন রহমত। অর্ধশতক করার পরও ধৈর্য হারাননি আফগান অধিনায়ক। ইকরামকে সঙ্গে নিয়ে দিনের বাকি সময়টুকু অতিবাহিত করেন তিনি।
পঞ্চম উইকেটে ১৯৪ বলে অবিচ্ছিন্ন ৭২ রানের জুটি গড়ে দিন শেষ করেন রহমত ও ইকরাম। অন্যদিকে ২৬ রান করতে ইকরাম খেলেছেন ৯১টি বল।
বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ২ উইকেট নিয়েছেন এবাদত হোসেন। ১১ ওভারে ৫০ রান দিয়ে এই উইকেট দুটি পান তিনি। হাসান মাহমুদ ১৬ ওভারে ৩৬ রান দিয়ে নিয়েছেন একটি উইকেট। ২০ ওভার বোলিং করে একটি উইকেট পেয়েছেন মিরাজ। তবে ২১ ওভার বোলিং করেও উইকেট পাননি তাইজুল ইসলাম।