আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট ম্যাচে দুর্দান্ত শুরু করল বাংলাদেশ। ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে প্রথম সেশনে বড় সংগ্রহের দিকে এগিয়েছে দল। তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছানোর প্রবল সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন তানজিদ, তবে মধ্যাহ্নবিরতির কিছু আগে ৮৩ রানে আউট হয়ে মাঠ ছাড়েন এই মারকুটে ব্যাটসম্যান। তার এই শতক মিস করার আক্ষেপ থাকলেও প্রথম সেশনের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে রেখেছে বাংলাদেশ।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। মধ্যাহ্নবিরতি পর্যন্ত নির্ধারিত ২৬ ওভারে মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে ১৩৪ রান সংগ্রহ করেছে তারা। তানজিদ আউট হওয়ার পর ক্রিজে টিকে আছেন শাদমান ইসলাম, যার সংগ্রহ ৪১ রান। তার সাথে ব্যাটিং শুরু করেছেন মুমিনুল হক, যিনি ৫ রান করে অপরাজিত রয়েছেন।
ইনিংসের শুরু থেকেই আফগান বোলারদের ওপর আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন বাঁহাতি ওপেনার তানজিদ। বিশেষ করে ইয়ামিন আহমদজাই এবং মোহাম্মদ সেলিমের বোলিংয়ে কোনো সুযোগ দেননি তিনি। মাত্র ৪১ বলে সাতটি চার ও একটি ছক্কার সাহায্যে দ্রুত ফিফটি পূর্ণ করেন তানজিদ।
অন্যদিকে, অপর প্রান্তে অত্যন্ত সতর্ক ব্যাটিং করেছেন শাদমান ইসলাম। ইনিংসের শুরুতে হাশমতউল্লাহ শহীদির বলে ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যাওয়ার পর তিনি আর কোনো ঝুঁকি নেননি। তানজিদের আক্রমণ এবং শাদমানের ধৈর্যের সমন্বয়ে প্রথম ১০ ওভারের মধ্যেই বোর্ডে ৫০ রান তোলে বাংলাদেশ।
এরপর আরও গতি বাড়িয়ে ব্যাটিং করেন তানজিদ। ফলে প্রথম ১৮ ওভারের মধ্যেই দলের সংগ্রহ ১০০ রানের গণ্ডি অতিক্রম করে।
অবশেষে ২৩তম ওভারে ইসমত আলমের বলে উইকেটকিপার ইকরাম আলীখিলের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন তানজিদ। ৭১ বলে আটটি চার ও চারটি ছক্কায় ৮৩ রানের একটি মূল্যবান ইনিংস খেলেন তিনি। এই উইকেটের মাধ্যমে ১২৪ রানের উদ্বোধনী জুটিটি ভেঙে যায়।
তানজিদের প্রস্থানের পর মুমিনুল হকের সাথে বাকি সময়টুকু নির্বিঘ্নে পার করেন শাদমান। ৭৯ বলে পাঁচটি চার মেরে ৪১ রান করে মধ্যাহ্নবিরতিতে যান তিনি। মুমিনুলের সংগ্রহ ৭ বলে ৫ রান।
আফগানিস্তানের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে কার্যকর ছিলেন ইসমত আলম। তিনি ৭ ওভারে দুটি মেডেনসহ মাত্র ১৭ রান দিয়ে একমাত্র উইকেটটি তুলে নেন।