আগের সরকারের আমলে ব্যাংক খাতের ব্যাপক লুটপাটের ফলে বর্তমানে ব্যাংকগুলো কার্যত শূন্য হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি মনে করেন, ব্যাংকগুলো এখন যেন একটি শূন্য মাঠের মতো পড়ে আছে। এই চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেই দেশের শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালু করা এবং বস্ত্র ও পোশাক খাতকে রক্ষা করার জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।
আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর রমনায় অবস্থিত অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (এইবি) মিলনায়তনে পোশাক খাতের বিদ্যমান সমস্যা ও তা সমাধানে করণীয় বিষয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে রুহুল কবির রিজভী প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
দেশের বস্ত্র ও পোশাক খাতের বর্তমান সংকটগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরে রিজভী বলেন, “জ্বালানি ও বিদ্যুতের সংকট, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, ঋণপত্র (এলসি) খোলার জটিলতা এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন শর্ত পূরণ করতে গিয়ে উদ্যোক্তারা সমস্যায় পড়ছেন।” তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এই সমস্যাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে তা সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে বস্ত্র ও পোশাকশিল্পের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, এই খাতের সঙ্গে কোটি কোটি মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত। তাই বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, জ্বালানি সংকট এবং উৎপাদন ব্যয়ের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে কীভাবে এই খাতকে টিকিয়ে রাখা যায়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের (এলডিসি) প্রভাব নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে রিজভী বলেন, এই উত্তরণের ফলে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাদের কাছ থেকে পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে আগের মতো সুবিধা পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে—এই বিবেচনায় কিছু ক্রেতা পণ্য কেনার ক্ষেত্রে দ্বিধাগ্রস্ত হতে পারেন।
আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কঠোর শর্তাবলি পূরণে শিল্পকারখানার পরিবেশ, উন্নত কর্মপরিবেশ এবং অন্যান্য মানদণ্ড নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এই শর্তগুলো পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তার কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ব্যাংক খাতের বর্তমান শোচনীয় পরিস্থিতিতে উদ্যোক্তাদের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করা এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালু করার বিষয়ে রিজভী বলেন, “রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানাগুলো দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের দিয়ে পরিচালনা করা গেলে সেগুলোকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা সম্ভব।” তিনি আরও বলেন যে, এই প্রক্রিয়ায় আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি এবং এক্ষেত্রে প্রকৌশলীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।
অনুষ্ঠানটিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন এইবির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম তুহিনসহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ।