শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে ঢাকার ধামরাইয়ে এখন চরম ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে দিন পার করছেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। উপজেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপেই এখন কাজের চাপ তুঙ্গে। কোথাও প্রতিমার শেষ মুহূর্তের রঙের কাজ চলছে, আবার কোথাও মণ্ডপ সাজাতে ব্যস্ত আয়োজকেরা। কারিগরদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় ধীরে ধীরে পূর্ণতা পাচ্ছে দেবী দুর্গার প্রতিমা। এর পাশাপাশি পূজামণ্ডপগুলোতে সাজসজ্জার পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রস্তুতিও চলছে পুরোদমে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) উপজেলার বিভিন্ন মণ্ডপে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিমা তৈরির মূল কাজ শেষ হয়ে এসেছে। বর্তমানে চলছে রং ও সাজসজ্জার চূড়ান্ত ধাপ। কোথাও দেবী দুর্গার প্রতিমায় তুলির শেষ আঁচড় দিচ্ছেন শিল্পীরা, আবার কোথাও মণ্ডপ সাজানোর কাজে ব্যস্ত আয়োজক দল। উৎসবের এই প্রস্তুতির পাশাপাশি পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও নেওয়া হচ্ছে নানা বিশেষ উদ্যোগ।

চলতি বছর ধামরাই উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভা মিলিয়ে মোট ২৩৪টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হচ্ছে। পূজার সময় খুব কাছাকাছি চলে আসায় প্রতিমা নির্মাণের শেষ ধাপের কাজ সারতে ব্যস্ত কারিগরেরা। মাটির অবয়ব তৈরির পর দেবী দুর্গা, সরস্বতী, লক্ষ্মী ও গণেশসহ বিভিন্ন দেবদেবীর প্রতিমায় রং ও কারুকাজ করছেন শিল্পীরা।

ধামরাইয়ের গাংগুটিয়া ইউনিয়নের বারবাড়িয়া এলাকার ঐতিহ্যবাহী ঠাকুরবাড়িতে প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন শ্রমিক স্বপন পাল। কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, “চার দিন আগে আমাদের মাটির কাজ শেষ হয়েছে। এরপর থেকে রং করার কাজ শুরু করেছি।”

তবে প্রতিমা তৈরির উপকরণের দাম বাড়লেও সেই অনুপাতে পারিশ্রমিক বাড়েনি বলে অভিযোগ করেছেন কারিগরেরা। ধামরাই পৌরসভা এলাকার একটি মণ্ডপে কর্মরত শ্রমিক শ্যামল পাল জানান, “রঙের দাম অনেক বেড়ে গেছে। কিন্তু বর্তমানে আমাদের কাজের মূল্য সেই হারে পাওয়া যায় না।”

এদিকে দুর্গাপূজার আয়োজন যেন নির্বিঘ্ন থাকে, সেজন্য ধামরাইয়ের মন্দিরগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি মন্দিরে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বেচ্ছাসেবক দল মোতায়েনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ধামরাই উপজেলা মন্দির কমিটির সদস্যসচিব রণজিৎ পাল জানান, “প্রতিটি মন্দিরে সিসিটিভি ক্যামেরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রতিটি মন্দিরে স্বেচ্ছাসেবক দল থাকবে।”

পূজার সময় শব্দযন্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। বিশেষ করে নামাজ ও আজানের সময় শব্দযন্ত্রের ব্যবহার সীমিত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে আশপাশের মানুষের ধর্মীয় কার্যক্রমে কোনো বিঘ্ন না ঘটে।

ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল মামুন বলেন, “বিশেষ করে নামাজ ও আজানের সময় সব পূজামণ্ডপে শব্দযন্ত্রের ব্যবহার অবশ্যই সীমিত রাখতে হবে, যাতে আশপাশের কারও অসুবিধা না হয়। সাধারণত নামাজ ও আজানের সময় শব্দযন্ত্র বন্ধ রাখা হয়। এবারও সেটি চালু থাকবে। এ বিষয়ে সবাইকে বলে দেওয়া হয়েছে।”