সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে সন্তান প্রসবের সময় এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। জন্মের পর শিশুটির মাথা, পিঠ ও গলায় একাধিক জখমের চিহ্ন দেখতে পান স্বজনরা, যা নিয়ে হাসপাতালের চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সিলেট নগরের আখালিয়া এলাকায় অবস্থিত মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। হাসপাতালের সেবার মান ও চিকিৎসকদের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নবজাতকের পরিবারের সদস্যরা।

পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বাসিন্দা নাজমা বেগমকে সন্তান প্রসবের জন্য দুদিন আগে মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। নাজমা বেগমের স্বামী ইদ্রিস আলী সুমন বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।

নবজাতকের স্বজনদের অভিযোগ, আল্ট্রাসনোগ্রাম প্রতিবেদনে শিশুটির ওজন সাড়ে তিন কেজি উল্লেখ ছিল। এই কারণে তারা শুরু থেকেই অস্ত্রোপচারের (সিজারিয়ান) মাধ্যমে সন্তান প্রসব করানোর অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তবে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা জানান, মা ও শিশু উভয়েই সুস্থ আছেন এবং স্বাভাবিক প্রসব সম্ভব। স্বজনদের দাবি, সময় অতিবাহিত হলেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিকিৎসকরা দেরি করেছেন।

নবজাতকের দাদা, দোয়ারাবাজারের টেংরা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মো. জোবায়ের হোসাইন মজুমদার অভিযোগ করেন, প্রসবের সময় শিশুটির মাথা বের হলেও কাঁধসহ শরীরের বাকি অংশ আটকে গিয়েছিল। এ অবস্থায় চিকিৎসকদের অপরিকল্পিত টানাটানির ফলে শিশুটির গলা, পিঠ ও মাথায় গুরুতর জখম হয়। তিনি দাবি করেন, পরবর্তীতে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে শিশুটির মৃত্যু ঘটে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, পরিস্থিতির জটিলতা চরম পর্যায়ে পৌঁছানোর পর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে ডাকা হয়, কিন্তু ততক্ষণে নবজাতকের মৃত্যু হয়ে গেছে।

তবে হাসপাতালের পক্ষ থেকে এই অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। মাউন্ট এডোরা হাসপাতালের ব্যবস্থাপক শফিক আহমদ বলেন, “শিশুটি জন্মের আগেই মারা গিয়েছিল।” এ ঘটনায় পরিবারের অভিযোগ থাকলে তারা সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক ল্যাবে পরীক্ষা করাতে পারে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি চাইলে তারা আইনগত ব্যবস্থাও নিতে পারেন বলেও উল্লেখ করেন ব্যবস্থাপক।