ফেনীর পরশুরাম উপজেলার বক্সমাহমুদ বাজারে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১৯টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এই অগ্নিকাণ্ডে ব্যবসায়ীদের প্রায় দুই কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট দোকানদাররা।
গত শুক্রবার (১০ অক্টোবর) গভীর রাতে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাজারের একটি মুদি দোকানে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে, মুহূর্তের মধ্যেই তা পার্শ্ববর্তী দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।
এই অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তালিকায় রয়েছেন নুরুল আমিন (রবিন), মাইফুল, নিজাম উদ্দিন, আবদুল কাদের (মিনার), মোস্তফা, সামছুল হক, মিন্টু, আবুল খায়ের এবং এমরান হোসেন।
বক্সমাহমুদ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন মিনার মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “বক্সমাহমুদ বাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০২৫ সালের ২৩ জুলাই রাত সাড়ে তিনটার দিকে বাজারের গোলাম আজম মার্কেটে আগুনে বীজ, চা ও মুদি দোকানসহ আটটি দোকান পুড়ে যায়। এরও আগে ২০২১ সালের ১৮ এপ্রিল রাত সাড়ে তিনটার দিকে মামুন ও জসিম পাটোয়ারী মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ওষুধ, মুদি, আসবাব ও স্বর্ণের দোকানসহ অর্ধশতাধিক দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়।”
তিনি আরও বলেন, “শুক্রবার রাতের অগ্নিকাণ্ডে ব্যবসায়ীরা সর্বস্ব হারিয়েছেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত পৌঁছানোয় অনেক দোকান আগুনের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।”
পরশুরাম ফায়ার স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার পরপরই তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিলেন। তবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পৌঁছানোর আগেই অধিকাংশ দোকান আগুনে পুড়ে যায় বলে তিনি জানান।
এদিকে পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতনু বড়ুয়া মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “হঠাৎ এভাবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতার চেষ্টা করা হচ্ছে।”