আশুলিয়ায় একটি ঝুট গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিসের দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও, আগুনের তীব্রতা ছড়িয়ে পড়ায় সংলগ্ন এলাকার বেশ কয়েকটি বাড়ি পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত পৌনে দশটার দিকে এই আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয় ফায়ার সার্ভিস। রাত ১২টা ২০ মিনিটের দিকে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিটের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।
ফায়ার সার্ভিসের দীর্ঘ লড়াইয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর এলাকায় পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে এই অগ্নিকাণ্ডে মোট কত টাকার সম্পদ নষ্ট হয়েছে বা কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হঠাৎ করে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগে পানি ও বালু ব্যবহার করে আগুন নেভানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালান। তবে আগুনের প্রচণ্ড তাপে ও লেলিহান শিখার কারণে এলাকার কয়েকটি কলোনি ও আবাসিক ভবনের আংশিক ক্ষতি হয়েছে।
জিরাবো ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শাহাবুদ্দিন জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সাঙ্গেই ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে প্রায় আড়াই ঘণ্টা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
তিনি বলেন, “অগ্নিকাণ্ডে দশটি গোডাউন আগুনে পুড়ে গেছে। আগুন ছড়িয়ে পড়ার কারণে গোডাউনের পাশের বাসাবাড়িতে আগুন লাগে।”
তবে তাৎক্ষণিকভাবে আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা।
আশুলিয়া জামগড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (এসআই) আবু তালেব মুক্তকণ্ঠকে জানান, “অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ শুরু করে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়ায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে রাখতে সচেষ্ট ছিল।” তবে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে তিনি নিশ্চিত করেন।