প্রকৃত শ্রমিক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনসহ চারটি বিশেষ দাবি উত্থাপন করেছেন বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির নেতা ও কর্মীরা। তাদের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে গণতান্ত্রিক শ্রম বিধিমালা প্রণয়ন, ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং শ্রমিকদের প্রতি অসৎ আচরণ বন্ধ করা।

রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আজ শুক্রবার এক সমাবেশ ও মিছিলের মাধ্যমে এসব দাবি জানানো হয়। বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার।

কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহীম চৌধুরীর সঞ্চালনায় আয়োজিত এই সভায় একে একে বক্তব্য প্রদান করেন কেন্দ্রীয় সহসভাপ্রধান এফ এম নুরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক হযরত বিল্লাল এবং কেন্দ্রীয় সদস্য মামুন, সাহিদা আক্তার ও আকলিমা আক্তার। এছাড়া এই কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে কথা বলেন আউটসোর্সিং কর্মচারীর নেতা নুরুল হক, প্রাইভেট কার ইউনিয়নের সহসভাপতি আক্কাস মিয়া এবং ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের সদস্য সোহেলা রুমি।

উল্লেখ্য যে, সংশোধিত শ্রম আইনের আওতায় শিল্প খাতের শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণের সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করা হয়েছে। শ্রমিকদের দীর্ঘ আন্দোলনের মুখে গত সপ্তাহে সরকার মজুরি বোর্ড গঠনের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

সমাবেশের বক্তারা তাদের বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, গত তিন বছরে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যেভাবে আকাশচুম্বী হয়েছে, তাতে শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি নির্ধারণ করা এখন সময়ের দাবি। তাই প্রকৃত শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিয়ে দ্রুত মজুরি বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করার আহ্বান জানান তাঁরা। বক্তারা অভিযোগ করেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের শাসনামলে গঠিত তিনটি মজুরি বোর্ডেই শ্রমিক বা নিরপেক্ষ প্রতিনিধিদের পরিবর্তে মূলত মালিকপক্ষের স্বার্থকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। সরকারের প্রতি অনুরোধ করা হয় যেন এই পুরোনো ও ত্রুটিপূর্ণ পথ পরিহার করা হয়।

শ্রমিকনেতারা আরও জানান, চলতি বছর শ্রম আইন সংশোধন করে কোনো প্রতিষ্ঠানে ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনের জন্য ২০ শতাংশ শ্রমিকের সম্মতির বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে মাত্র ২০ জন শ্রমিকের সম্মতিতে ইউনিয়ন নিবন্ধনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে বাস্তব ক্ষেত্রে এখনো ইউনিয়ন রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে নানা হয়রানি ও দুর্বলতা বিদ্যমান। তাঁরা বলেন, “শ্রমিকের সংখ্যা নির্ধারণ, প্রত্যয়নপত্র দেওয়া ও ৫৫ দিনে রেজিস্ট্রেশন না হওয়া, অনলাইন সার্ভার কাজ না করা ইত্যাদি বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে।” শ্রমিকদের ইউনিয়ন গঠনের এই প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ সহজ এবং হয়রানিমুক্ত করার জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।