মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলে কেবল আইন প্রয়োগ কিংবা অভিযান চালানো যথেষ্ট নয়, এর পাশাপাশি ব্যাপক সামাজিক পরিবর্তন আনা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (এফডিসি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই মত ব্যক্ত করেন। ‘ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র উদ্যোগে আয়োজিত ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সামাজিক আন্দোলন’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে তিনটি প্রধান বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “মাদক ব্যবসা বন্ধ করা, মাদকসংক্রান্ত অপরাধ দমন এবং মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে সহযোগিতা—এই তিনটি বিষয়কে সমান গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিতে হবে।” এই লক্ষ্য অর্জনে সরকার, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

মাদকাসক্তির পেছনে থাকা সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণগুলো বিশ্লেষণ করে ববি হাজ্জাজ বলেন, অর্থনৈতিক সুযোগের অভাব, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা অনেক তরুণকে অপরাধের পথে ঠেলে দেয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাস্তুচ্যুত মানুষের শহরমুখী হওয়া এবং বস্তি এলাকায় কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগ এই সমস্যাকে আরও ঘনীভূত করছে। তাই কেবল অপরাধ দমন করলেই হবে না, বরং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং একটি ইতিবাচক সামাজিক পরিবেশ গড়ে তোলার দিকে নজর দিতে হবে।

শিক্ষার মাধ্যমে নৈতিকতা জাগিয়ে তোলার ওপর জোর দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “প্রাথমিক শিক্ষা থেকে শুরু করে শিক্ষার প্রতিটি স্তরে নৈতিক শিক্ষা আরও কার্যকরভাবে অন্তর্ভুক্ত করার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।” তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, নৈতিকতা যেন কেবল পাঠ্যবইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ না থাকে। পরিচ্ছন্নতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং জনকল্যাণমূলক কাজে সক্রিয় অংশগ্রহণের মতো বাস্তব চর্চার মাধ্যমেই প্রকৃত নৈতিকতা গড়ে তোলা সম্ভব। শিক্ষা ও সামাজিক উদ্যোগের সমন্বয়ে মানুষের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, “মাদক কারবারিদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে তারা রাজনৈতিক রং বদলে মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মব সন্ত্রাসে জড়িয়ে পড়ে।” তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, তরুণ প্রজন্ম মাদকের অন্ধকার পথ পরিহার করে পড়াশোনা ও গবেষণায় মনোযোগী হবে এবং রোবোটিকস ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো আধুনিক প্রযুক্তিতে নিজেদের দক্ষ করে তুলবে।

উল্লেখ্য যে, এই ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় সরকারি দলের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেয় বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিরোধী দলের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেয় হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ। প্রতিযোগিতার শেষে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতার্কিকরা বিজয়ী হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।