গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে কুমার নদের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টিকারী অবৈধ বাঁধ অপসারণ এবং নিষিদ্ধ পদ্ধতিতে মাছ শিকার বন্ধ করতে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। মুক্তকণ্ঠ অনলাইনে এই বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরদিনই জেলা প্রশাসকের বিশেষ নির্দেশে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার মহেশপুর ইউনিয়নের বালুগ্রাম দক্ষিণপাড়া এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন কাশিয়ানী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পাপিয়া সুলতানা লিজা। তাকে এই কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আসলাম হোসেন শেখ।

অভিযান চলাকালীন কুমার নদের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে নির্মিত বাঁশের অবৈধ বাঁধটি সম্পূর্ণ অপসারণ করা হয়। পাশাপাশি মাছ শিকারের জন্য ব্যবহৃত ক্ষতিকর সুতি জালগুলো কেটে নষ্ট করা হয়। প্রশাসনের এই তৎপরতায় নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ পুনরায় ফিরে এসেছে এবং দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজনন সুরক্ষার পথ প্রশস্ত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বালুগ্রাম পশ্চিমপাড়ার সিফারের ছেলে বিশুর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নদে অবৈধ বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার করার অভিযোগ ছিল। এলাকাবাসীর দেওয়া তথ্যমতে, প্রায় দুই বছর আগেও ঠিক একই স্থানে নির্মিত একটি অবৈধ বাঁধ উচ্ছেদ করেছিল মৎস্য অধিদপ্তর। এবার দ্বিতীয়বারের মতো ওই বাঁধটি উচ্ছেদ করা হলো।

এই অভিযানে কাশিয়ানী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ফুরকান শরীফ টিটু, সদস্য সচিব মিলন খানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

অভিযান প্রসঙ্গে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পাপিয়া সুলতানা লিজা বলেন, “গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় এই অভিযান চালানো হয়েছে। দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষা এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ। অবৈধ বাঁধ নির্মাণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসলাম হোসেন শেখ বলেন, “প্রবহমান নদীতে বাঁধ নির্মাণ করে সুতি জালের সাহায্যে মাছ শিকার করা মৎস্য আইনে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশীয় মাছের প্রজনন ও জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

কুমার নদে অবৈধ বাঁধ নির্মাণ ও সুতি জাল দিয়ে মাছ শিকারের বিষয়টি মুক্তকণ্ঠসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন আকারে প্রকাশিত হওয়ার পর প্রশাসনের নজরে আসে। সংবাদ প্রকাশের পরপরই দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করায় সচেতন মহল এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে।