কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে একটি মন্দিরে ভাঙচুরের ঘটনাটি সামনে এসেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দুইটার পর কুমারখালী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের খয়েরচারা মাতৃমন্দিরে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। এই ভাঙচুরের ফলে মন্দিরের তিনটি প্রতিমার বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।

পুলিশি সূত্রে জানা গেছে, মন্দির কমিটি নিয়ে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং জমিসংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বর্তমানে তদন্ত কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

পুলিশ, স্থানীয় বাসিন্দা এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দেওয়া তথ্যানুসারে, আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে খয়েরচারা মাতৃমন্দিরে প্রতিমা তৈরির কাজ চলছিল। গতকাল রাতে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করে কারিগর ও অন্যান্য সহযোগীরা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যান। আজ সকালে মন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, গণেশ ও লক্ষ্মী প্রতিমার মাথা এবং দুর্গার বাহন সিংহের কিছু অংশ ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে।

মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক কৌশিক বিশ্বাস জানান, রাত দুইটা পর্যন্ত তাঁরা মন্দিরে অবস্থান করেছিলেন। প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হওয়ার পর সেগুলো ঢেকে রেখে সবাই বাড়ি ফিরে যান। সকালে ভাঙচুরের বিষয়টি জানতে পেরে তিনি যখন ঘটনাস্থলে যান, তখন প্রতিমাগুলো ভাঙা দেখতে পান। তাঁর ধারণা, রাত দুইটার পর এই ঘটনাটি ঘটেছে।

দুর্গাপূজার প্রাক্কালে এমন ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে কৌশিক বিশ্বাস বলেন, “কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে তাঁরা নিশ্চিত নন।” ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “মন্দির কমিটি নিয়ে সেখানে দুটি পক্ষ আছে। তাদের মধ্যে বিরোধ আছে। বিরোধ মেটাতে উভয় পক্ষ বৈঠকও করেছে। আজ আবার বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। এ ছাড়া জায়গাজমি নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিরোধ রয়েছে। সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে।”

তিনি আরও জানান, এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে ভাঙা অংশগুলো দ্রুত মেরামত করা হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মন্দিরে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো ছিল উল্লেখ করে ওসি জামাল উদ্দিন আরও বলেন, “তবে বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়ার আশঙ্কায় মন্দিরের লোকজন গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ক্যামেরাগুলো খুলে রেখেছিলেন। এ কারণে কোনো ফুটেজ পাওয়া যাচ্ছে না।”

কুমারখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাভিদ সারওয়ার মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভাঙা অংশ দ্রুত মেরামত করা হচ্ছে। সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।”