কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক গৃহবধূকে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলার পর নাসিমা খাতুন (৪২) নামের ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে হেফাজতে নিয়েছে।
গত সোমবার (২ নভেম্বর) ভোরে উপজেলার সদকী ইউনিয়নের বাটিকামারা এলাকায় এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে। নিহত নাসিমা খাতুন ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল ইসলামের স্ত্রী ছিলেন।
পুলিশ, স্থানীয় বাসিন্দা এবং নিহতের পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, বসতবাড়ির জমি দখল নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় মোমিনের নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল নাসিমাদের বাড়িতে অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এসময় হামলাকারীদের বাধা দিতে গেলে নাসিমা খাতুন এবং তার পুত্রবধূর সঙ্গে আক্রমণকারীদের কথা কাটাকাটি ও বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে নাসিমা গুরুতর আঘাত পেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
এরপর তার পুত্রবধূর চিৎকার শুনে আশপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তারা নাসিমাকে উদ্ধার করে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের মা আলেয়া খাতুন ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, “হামলার সময় তার মেয়ে নাসিমা বাধা দিতে এগিয়ে গেলে অভিযুক্ত আকরাম তাকে ধাক্কা দেন। এতে নাসিমা মাটিতে পড়ে যান। পরে প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।”
এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আকরামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মিঠু ও রিপন নামে দুজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।