বাবার মৃত্যুর শোক কাটিয়ে উঠতে না পেরেছে চার বছর বয়সী এক শিশু, এরই মাঝে তাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ফরিদপুর সদর উপজেলার মাচ্চর ইউনিয়নের একটি গ্রামে এই ন্যক্কারজনক ঘটনাটি ঘটেছে। পরিবারের সদস্যরা যখন মৃত বাবার মিলাদের আয়োজনের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিলেন, ঠিক সেই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে শিশুটিকে বাড়ির পাশের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত রাজ্জাক বিশ্বাস নামের এক ব্যক্তিকে (৪৬) স্থানীয়রা আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর)। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ দিন আগে শিশুটির বাবা মৃত্যুবরণ করেন। আগামী শুক্রবার বাড়িতে মিলাদের অনুষ্ঠান নির্ধারিত ছিল, তাই বৃহস্পতিবার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন প্রস্তুতিমূলক কাজে ব্যস্ত ছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, এই ব্যস্ততার সুযোগ নিয়ে রাজ্জাক শিশুটিকে বাড়ির পাশের একটি স্থানে নিয়ে যান এবং সেখানে তাকে ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে শিশুটির কান্নার শব্দ শুনে পরিবারের সদস্যদের মনে সন্দেহ জাগে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তারা দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্ত রাজ্জাককে ধরে ফেলেন এবং পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে থানায় নিয়ে যায়।

অভিযুক্ত রাজ্জাক বিশ্বাস রাজবাড়ী জেলার খানখানাপুর এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির বোন বাদী হয়ে দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বর্তমানে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

এদিকে, এই পাশবিক নির্যাতনের ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে জুমার নামাজের পর স্থানীয়দের উদ্যোগে একটি মানববন্ধনের আয়োজন করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনের সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “ফরিদপুর সদরের একটি গ্রামে শিশুটিকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় রাজ্জাক নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে খবর দেন এলাকাবাসী। পরে তাকে থানায় নেওয়া হয়।”

তিনি আরও জানান, “এ ঘটনায় শিশুটির বোন বাদী হয়ে রাজ্জাককে একমাত্র আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছে।”