দলের ত্যাগী ও নির্যাতিত কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক জামাল হোসেন লস্কর।

গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া একটি পোস্টে তিনি সরাসরি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন, ‘আপনার দলের ধ্বংস নিশ্চিত।’ এই পোস্টটি প্রকাশের পর থেকেই স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

জামাল হোসেন লস্কর বর্তমানে সরাইল উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক এবং সরাইল উপজেলা ছাত্রদলের সদ্য সাবেক আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইন ছাত্র ফোরামের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার আহ্বায়ক। এর আগে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রদল এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তার ফেসবুক পোস্টে জামাল হোসেন লস্কর লিখেছেন, ‘হ্যালো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব Tarique Rahman, আপনার দলের ধ্বংস নিশ্চিত। আপনি বলেছিলেন, মিছিলের শেষ কর্মীটি মূল্যায়ন পাবে। কিন্তু বাস্তব সত্য হচ্ছে, প্রথম কর্মীটি অস্তিত্ববিলীন। সময় কিন্তু এক রকম যায় না—খারাপ সময় যেকোনো মুহূর্তে!’

এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে জামাল হোসেন লস্কর জানান, দলের দুঃসময়ে আন্দোলন ও সংগ্রামের পথে তিনি অসংখ্য মামলা এবং হামলার শিকার হয়েছেন। তিনি বলেন, “জেলে গিয়েছি, রিমান্ডে নির্যাতনের শিকার হয়েছি, চাকরিচ্যুত হয়েছি। অনেক দিন না খেয়ে রোজা রাখতে হয়েছে। পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনও অন্যায়ভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, এত ত্যাগ স্বীকার করার পর তার প্রিয় দল বিএনপি সারের ডিলার হিসেবে পরিচিত এক আওয়ামী লীগ নেতা এবং জুলাই বিপ্লবের আন্দোলন-সংক্রান্ত মামলার এজাহারভুক্ত এক আসামিকে মূল্যায়ন করেছে।

নিজের হতাশা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, “আমার দলের মাননীয় চেয়ারম্যান ও বর্তমান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান বলেছিলেন, রাজপথের মিছিলের শেষে থাকা কর্মীকেও মূল্যায়ন করা হবে। কিন্তু বাস্তব সত্য হচ্ছে, দলের নিবেদিত, ত্যাগী ও নির্যাতিত কর্মীদের মুহূর্তে মুহূর্তে অপমান ও অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। এমন হবে কখনো ভাবিনি। বিষয়টি খুবই হতাশাজনক এবং একজন কর্মী হিসেবে খুবই লজ্জাজনক।”