‘তারা আমাদের হাঁটার জায়গা দখল করতে চায়, এখানকার ময়লা পরিশোধনাগার দখল করে বাজার বসাতে চায়। আমরা এটি হতে দিতে পারি না।’ কথাগুলো বলছিলেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম।
রাজধানীর উত্তরায় রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পে (রুয়াপ) অবৈধ দখল, মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে আজ শুক্রবার সকালে এক মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে মো. জাহাঙ্গীর আলম এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
রুয়াপের ৬ নম্বর প্রবেশপথের ঠিক বিপরীতে আয়োজিত এই মানববন্ধনে অংশ নেন শতাধিক বাসিন্দা। তারা অবৈধ দখল ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান জানান। মানববন্ধনের স্থানটির ঠিক বিপরীতেই মূল সড়কের ওপর একটি বাজার বসানো হয়েছে, যা নিয়ে বাসিন্দারা তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
মানববন্ধনে মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এখানে রুয়াপের ভেতরের এবং বাইরের কয়েকজন মিলে চাঁদাবাজি ও দখলবাজি করতে চায়, আমরা এগুলো চাই না। কোনো প্রকার অবৈধ স্থাপনা ও দখল আমরা এখানে চাই না।’
বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাজউক প্রকল্পের কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই সমাপ্তির নোটিশ দিয়ে দিয়েছে, যার ফলে পুরো আবাসিক এলাকাটি কার্যত অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে একটি চক্র আবাসিক এলাকার বিভিন্ন স্থানে অবৈধ দখলদারির পাশাপাশি মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান কামনা করেন মানববন্ধনে উপস্থিত বাসিন্দারা। তারা আবাসিক এলাকার খেলার মাঠ, সবুজায়নের জন্য নির্ধারিত স্থান, সড়ক এবং ফুটপাতের অবৈধ দখল বন্ধ করার পাশাপাশি মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজি সম্পূর্ণ উচ্ছেদের দাবি জানান।
বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের আবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই প্রকল্প হাতে নিয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অতিরিক্ত ১০ বছর ব্যয় করার পরেও প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। তাদের দাবি, আবাসিক এলাকার বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স, কমিউনিটি সেন্টার, পার্কিং ভবন, সুইমিং পুল ও ব্যায়ামাগার কমপ্লেক্সের কাজ এখনো অসম্পূর্ণ। এছাড়া বিভিন্ন ভবনে অনেক ফ্ল্যাট এখনো বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।
আবাসিক এলাকায় মাদক সেবন ও ব্যবসার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর থেকে আবাসিক এলাকার বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় ও বহিরাগত তরুণদের আড্ডা জমে ওঠে এবং মধ্যরাত পর্যন্ত সেখানে মাদক সেবন চলে। তারা আরও অভিযোগ করেন যে, ‘একটি চক্রের’ সহায়তায় সেখানে মাদক ব্যবসা বিস্তার করা হচ্ছে।
মানববন্ধনে রুয়াপের জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের সংগঠন ‘নিসর্গ নীলিমা’র উদ্যোক্তা নিলোফার জাহান ববি বলেন, ‘আমরা একটি সরকারি আবাসিক এলাকায় থাকি। এখানে অবৈধ দখল ও চাঁদাবাজি হচ্ছে। আমরা এসব চাই না। আমরা বসবাসের উপযোগী একটি রুয়াপ চাই।’
রুয়াপের বাসিন্দা কৃষিবিদ শাহীন আনোয়ার মানববন্ধনে বলেন, ‘আমরা সম্মিলিতভাবে এসব অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে এখানে দাঁড়িয়েছি। আমরা কোনো অন্যায় মেনে নেব না।’
রুয়াপের আরেক বাসিন্দা মানিক মানবিক বলেন, ‘এখানে কতিপয় লোক, যারা রুয়াপে বাসিন্দা, তারা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় রুয়াপের বিভিন্ন জায়গা ও রাস্তা দখল করতে চায়। সকালে বাজার বসে, বিকেলে বাজার বসে। জনসমাগমের আশপাশে মাদকের আড্ডা বসে। এসব চলতে দেওয়া যাবে না।’