‘ক্লাব আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছে, ফারহান আলী ওয়াহিদ ২০২৬ জনি হেইনেস ট্রফি বিজয়ী।’
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের স্বনামধন্য ক্লাব ফুলহাম তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গতকাল রাতে এই ঘোষণা প্রদান করেছে। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ইংলিশ উইঙ্গার ফারহান আলী ওয়াহিদ গত আগস্টে ফুলহাম থেকে ধারে ইংলিশ ফুটবলের পঞ্চম স্তরের ক্লাব বোরহাম উডে যোগ দিয়েছেন। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে মোটসপুর পার্কে অবস্থিত ফুলহামের অনুশীলন মাঠে গিয়ে তিনি ফুলহাম সাপোর্টার্স ট্রাস্টের হাত থেকে এই সম্মানজনক পুরস্কারটি গ্রহণ করেন।
ফুলহাম একাডেমির উদীয়মান ও সেরা তরুণ ফুটবলারদের স্বীকৃতি দিতেই এই বর্ষসেরার পুরস্কার প্রদান করা হয়। ক্লাবের বর্তমান খেলোয়াড় এবং কোচিং স্টাফদের সম্মিলিত ভোটাভুটির মাধ্যমে এই ট্রফির বিজয়ী নির্বাচন করা হয়।
২০০৬ সালের ৯ ডিসেম্বর ইংল্যান্ডে জন্ম ফারহানের। তাঁর বাবা-মা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এবং তাঁদের শিকড় সিলেটের সাথে যুক্ত, যদিও তাঁদের জন্ম যুক্তরাজ্যে। লন্ডনের রাস্তায় বেড়ে ওঠা ফারহান তাঁর ফুটবল জীবনের প্রাথমিক পাঠ গ্রহণ করেন চেলসির একাডেমিতে। তবে ২০১৯ সালে তিনি পশ্চিম লন্ডনের ক্লাব ফুলহামের একাডেমিতে যোগ দেন।
পেশাদার ফুটবলার হিসেবে নিজের প্রথম মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ টু-এর (অনূর্ধ্ব-২১ পর্যায়) ২১টি ম্যাচে ১৭টি গোলের অবদান রেখে ফুলহামকে চতুর্থ স্থানে নিয়ে আসতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। গত নভেম্বরে এই লিগের মাসসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন ১৯ বছর বয়সী ফারহান। এছাড়া মৌসুমে সেরা খেলোয়াড়ের মনোনয়নও পান তিনি। বর্তমানে বোরহাম উডের হয়ে এ পর্যন্ত চারটি ম্যাচ খেলেছেন তিনি।
গত মাসে ফিফা আসিয়ান কাপে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলে অভিষেক হয় ফারহানের। পরবর্তীতে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের জার্সিতে নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক গোলটি করেন তিনি। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার অনুভূতি ব্যক্ত করে ফুলহামের ওয়েবসাইটকে ফারহান বলেন, ‘দেশের প্রতিনিধিত্ব করা আমার জন্য সত্যিই দারুণ এক ব্যাপার ছিল। এটি আমার ও আমার পরিবারের জন্য অত্যন্ত গর্বের একটি মুহূর্ত এবং দলের হয়ে একটি গোল করতে পেরে আমি আনন্দিত।’
ফারহান আরও বলেন, ‘প্রায় ৫০ হাজার দর্শকের সামনে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে গোল করেছি, আর স্টেডিয়ামের পরিবেশ এই অভিজ্ঞতাকে সম্পূর্ণ অন্য রকম এক উচ্চতায় নিয়ে যায়। সামনে আন্তর্জাতিক বিরতিতে আমাদের ম্যাচগুলো বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হবে, আমি ইতিমধ্যেই প্রচুর বার্তা পেয়েছি এবং এর জন্য আমি সত্যিই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’
জনি হেইনেস ট্রফি জয়ের অনুভূতি প্রকাশ করে ফারহান বলেন, ‘এ পুরস্কারের জন্য সতীর্থদের ভোট পাওয়াটা দারুণ ব্যাপার, অত্যন্ত তৃপ্তিদায়ক অনুভূতি। সতীর্থদের ছাড়া আমি এটি অর্জন করতে পারতাম না। তারাই মানদণ্ড ঠিক করে দেয়, অনুপ্রেরণা জোগায় ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করে, যা আমাকে ভালো খেলোয়াড় হয়ে উঠতে সাহায্য করেছে। অতীতে যারা এই ট্রফি জিতেছে, তাদের নামের তালিকায় তাকালে বোঝা যায় এটি কত বিশেষ এক অর্জন।’
উল্লেখ্য, ফুলহামের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় জনি হেইনেসের সম্মানে এই ট্রফি প্রবর্তিত হয়। ২০১৯ সাল থেকে একাডেমির বর্ষসেরা তরুণ খেলোয়াড়দের এই পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। ফুলহাম সাপোর্টার্স ট্রাস্টের সদস্য পিটার গ্রিনহ্যাম এই ট্রফি চালুর ধারণা দিয়েছিলেন।