ব্যবসায়ীকে কৌশলে ফাঁদে ফেলে মারধর, নগ্ন ভিডিও ধারণ এবং সেই ভিডিওর মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায়ের গুরুতর অভিযোগে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম হলেন ভাণ্ডারিয়া পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সজীব চাপরাশি। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় গ্রেপ্তারের পরপরই তাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠনের সকল পদ থেকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পিরোজপুর জেলা ছাত্রদল।
গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন তালুকদার এই বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশি সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে ভাণ্ডারিয়া বাজারের রিজার্ভ পুকুরপাড় এলাকায় এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে সজীব চাপরাশি (২৫), যিনি উপজেলার উত্তর-পূর্ব ভাণ্ডারিয়া এলাকার বাসিন্দা, এবং আরও দুজন হলেন মোস্তাফিজুর রহমান রনি (৩৫) ও মারিয়া আক্তার (ছদ্মনাম)।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ অনুযায়ী, ভাণ্ডারিয়া বাজারসংলগ্ন রিজার্ভ পুকুরপাড় এলাকায় ইলেকট্রিক ব্যবসায়ী মানবেন্দ্র রায় মুন্নাকে (৩৪) কৌশলে ফাঁদে ফেলা হয়। অভিযোগ রয়েছে যে, তাকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে নগ্ন ভিডিও ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে ওই ভিডিও ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের চেষ্টার অভিযোগে এই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার রাতেই সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সজীব চাপরাশিকে বহিষ্কার করে পিরোজপুর জেলা ছাত্রদল। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন তালুকদার কুমার এবং সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান শাহীন এই বহিষ্কার সিদ্ধান্তটি অনুমোদন করেন। জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক খালিদ হাসানের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সজীবকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠনের সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে তার সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন তালুকদার বলেন, “স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সজীবের বিরুদ্ধে বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। সার্বিক বিষয় বিবেচনায় সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
ভাণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান জানান, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। তাদের ইতিমধ্যে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।