আগামী দিনের টেকসই ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সততা, আন্তরিকতা এবং নিরপেক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি এই আহ্বান জানান যেন তারা তাদের পেশাগত জীবন শুরু থেকেই এই মূল্যবোধগুলো ধারণ করেন।

বৃহস্পতিবার পুলিশ সদর দপ্তরের হল অব ইন্টেগ্রিটিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ইউনিটে পদায়িত ৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের কর্মকর্তাদের (এএসপি) জন্য দিকনির্দেশনামূলক ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির এই কথাগুলো বলেন। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়েছে।

অনুষ্ঠানে আইজিপি আলী হোসেন ফকির বলেন, “বর্তমান বাস্তবতায় পুলিশকে নতুন পথরেখা নির্মাণ করতে হয়েছে, যা জনপ্রত্যাশা, মানবাধিকার এবং নারী, শিশু ও বয়স্ক নাগরিকদের প্রতি সংবেদনশীল। নতুন পদায়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের নবোদ্যম ও অঙ্গীকার নিয়ে জনপ্রত্যাশা পূরণের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে। প্রত্যেককে পুলিশ বাহিনীর একজন অ্যাম্বাসেডর হিসেবে জনতার পাশে দাঁড়াতে হবে।”

পুলিশিংয়ের চ্যালেঞ্জ ও সেবার গুরুত্ব উল্লেখ করে আইজিপি আরও বলেন, “পুলিশিং একটি সেবা ও চ্যালেঞ্জ। ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানপরবর্তী সমাজ ও রাষ্ট্রের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করে পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।”

নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের ভবিষ্যৎ পুলিশ লিডার হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। নিত্যনতুন জ্ঞান ও অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হতে হবে। দায়িত্ব পালনের সময় সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা বজায় রেখে আইন ও বিধিবিধানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পেশাদারত্ব বজায় রাখতে হবে।

জনগণের সাথে সম্পর্কের বিষয়ে পুলিশপ্রধান বলেন, “জনগণের সঙ্গে আস্থাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে তাঁদের সেবা প্রদান করতে হবে।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত নতুন পদায়িত কয়েকজন কর্মকর্তা মাঠপর্যায়ে তাঁদের প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা সবার সামনে তুলে ধরেন। তাঁরা পেশাদারিত্ব বজায় রেখে জনগণকে সেবা দেওয়ার মাধ্যমে জনআস্থা অর্জনে দায়িত্ব পালনের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য যে, ৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচে মোট ৭২ জন কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দিয়েছেন। এই কর্মকর্তাদের মধ্যে ৬৬ জন পুরুষ এবং ৬ জন নারী সদস্য রয়েছেন।

পুরো অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেন। তিনি নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি জাতির প্রত্যাশা পূরণে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত আইজিপি (অর্থ) মো. আকরাম হোসেন, অতিরিক্ত আইজিপি (এইচআরএম) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত আইজিপি (ডেভেলপমেন্ট) সরদার নূরুল আমিন, অতিরিক্ত আইজিপি (লজিস্টিকস অ্যান্ড অ্যাসেট অ্যাকুইজিশন) মো. মুশফেকুর রহমান, অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. সায়েদুর রহমান, অতিরিক্ত আইজি (অডিট অ্যান্ড ইন্সপেকশন) ও নবগঠিত সাইবার পুলিশ ইউনিটের প্রধান মো. ইকবাল হোসেন এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ডিআইজি (প্রশাসন) মো. হুমায়ুন কবীর।